জেলা কোচ নিয়োগে ব্যবহারিক-লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিলেন ৩০০ প্রার্থী

প্রশ্নে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের মৌলিক জ্ঞান, ম্যাচ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া, খেলোয়াড়ের চোট সামাল দেয়া ও একজন ব্যাটসম্যানের টেকনিক্যাল সমস্যা দূর করতে চার সপ্তাহের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জেলা কোচ নিয়োগে ব্যবহারিক পরীক্ষা
জেলা কোচ নিয়োগে ব্যবহারিক পরীক্ষা |সংগৃহীত

প্রথমবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্কের পর জেলা কোচ নিয়োগে পদ্ধতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি একই দিনে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান আগ্রহী প্রার্থীরা।

রোববার (২ আগস্ট) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী এই নিয়োগ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কয়েকটি ধাপে ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নেয়া হয় লিখিত পরীক্ষা।

পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে উন্মুক্ত পরিবেশে, যেখানে সাংবাদিকদেরও ব্যবহারিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়া হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রত্যেক প্রার্থীকে ১০ মিনিট সময় দেয়া হয়।

ঢাকার বিভিন্ন ক্রিকেট অ্যাকাডেমি থেকে আনা ক্ষুদে ক্রিকেটারদের নিয়ে ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিংয়ের মৌলিক কৌশল শেখানোর দক্ষতা যাচাই করেন পরীক্ষকরা। যে কোচ যে বিভাগে পারদর্শী, তিনি সেই দক্ষতাই প্রদর্শনের সুযোগ পান।

পরীক্ষা পরিচালনায় ছিলেন সোহেল ইসলাম, মিজানুর রহমান, ওয়াহিদুল গণি, রাশেদ ইকবাল ও মন্টু দত্তসহ মোট ১০ জন কোচ। পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রধান কোচ নাভিদ নাওয়াজ।

এবারের লিখিত পরীক্ষাতেও এসেছে পরিবর্তন। আগেরবার শুধু ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলেও এবার প্রশ্নপত্র ছিল বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই। ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের পাশাপাশি একটি বর্ণনামূলক প্রশ্ন রাখা হয়।

প্রশ্নে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের মৌলিক জ্ঞান, ম্যাচ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া, খেলোয়াড়ের চোট সামাল দেয়া ও একজন ব্যাটসম্যানের টেকনিক্যাল সমস্যা দূর করতে চার সপ্তাহের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ব্যবহারিক ও লিখিত—দুই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আজ সোমবার মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এরপর চূড়ান্ত করা হবে ৫৯ জেলা ও ঢাকা মহানগরের জন্য মোট ৬১ জন জেলা কোচ। দুই বছরের চুক্তিতে তাদের নিয়োগ দেবে বিসিবি।

উল্লেখ্য, প্রথম দফার নিয়োগ পরীক্ষায় ২১৮ জনের মধ্যে মাত্র ৩৮ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে যোগ্যতার মানদণ্ডে পরিবর্তন এনে দ্বিতীয় দফায় নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হয়।

এতে চার শতাধিক আবেদন জমা পড়ে এবং প্রায় ৩০০ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।