জাতীয় দলে অনেকদিন ছিলেন না নুরুল হাসান সোহান, তবে আলোচনার কমতি ছিলো না তাকে নিয়ে। মাঠে দারুণ কিছু করেই নিজেকে আলোচনায় রাখতেন তিনি। সুবাদে এশিয়া কাপ দিয়ে খুলে তার জাতীয় দলের দরজা।
এশিয়া কাপে খুব একটা সুযোগ পাননি সোহান, তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সুযোগ পেয়ে বাজিমাত করেন। প্রথম ম্যাচে ১৩ বলে ২৩, দ্বিতীয় ম্যাচে ২১ বলে ৩১ আর শেষ ম্যাচে ৯ বলে ১০।
তিন ম্যাচেই ছিলেন অপরাজিত, স্ট্রাইকরেট এমন পারফরম্যান্সের পর ওয়ানডে দলের দরজাও খুলেছে সোহানের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে খেলছেন তিনি।
অবশ্য শুধু টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, বিগত কিছু বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটেও রীতিমতো উড়ছেন সোহান। ২০২৩/২৪ ডিপিএলে মৌসুমেই করেন ৪৯৫ রান। মারকুটে ব্যাটিংয়ে রান পেয়েছিলেন গত ডিপিএলেও।
চলতি বছরের মার্চে হওয়া টুর্নামেন্টে ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে ১১ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি ও ২ হাফ সেঞ্চুরিতে ৫১২ রান করেছিলেন সোহান। এছাড়া নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি করেছিলেন দু’টি।
সব মিলিয়ে প্রস্তুতি নিয়েই জাতীয় দলে ফিরছেন তিনি। একই সাথে পেয়েছেন একাদশে থাকার নিশ্চয়তাও। ওয়ানডে সিরিজে উইকেটের পেছনে সোহানকে দেখতে চান বলে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনেই বলেছেন মেহেদী মিরাজ।
সোহানকে বাংলাদেশের সেরা উইকেটকিপার হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। এর পেছনে যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমরা জানি, সোহান বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি বাংলাদেশের সেরা উইকেটকিপারের কথা বলা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে সোহানই সেই জায়গায় আছে। স্বাভাবিকভাবেই ওয়ানডেতে উইকেটকিপিংয়ের ক্ষেত্রে তার সুযোগও বেশি থাকবে।’
দলে জাকের আলি থাকলেও অভিজ্ঞতার কারণেই তার চেয়ে সোহানকে এগিয়ে রাখছেন মিরাজ। নিজের যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমিও সেটাই চাইব। কারণ, তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। সে বাংলাদেশের হয়ে অনেক ম্যাচ খেলেছে। যদি সুযোগ পাওয়া যায়, আমি বিশ্বাস করি সোহান বাংলাদেশকে আরো অনেক সাফল্য এনে দিতে পারবে।’
বাংলাদেশের হয়ে দীর্ঘ প্রায় ৮ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র পাঁচটি ওয়ানডে ইনিংস খেলেছেন সোহান। যেখানে রান ১৬৫। গড় ৮২.৫০ ও স্ট্রাইকরেট প্রায় ৯৫।



