দেড় বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বসিত তাসকিন

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দলে তাকে রাখা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে তার একাদশে থাকার সম্ভাবনাও প্রবল। অভিজাত এই সংস্করণে ফেরার আনন্দ ছুঁয়ে গেছে তাসকিনকে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Dhaka
তাসকিন আহমেদ
তাসকিন আহমেদ |সংগৃহীত

দেড় বছরের বিরতি শেষে আবারো টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছেন তাসকিন আহমেদ। সাময়িক অবসর ভেঙে আসন্ন পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে প্রত্যাবর্তন ঘটছে তার।

সবশেষ সাদা পোশাকে তাসকিন খেলেছেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। অসাধারণ বোলিং করে দুই ম্যাচের সেই সিরিজের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।

তবে এরপর বিগড়ে বসেছিল তার শরীর। চোট থেকে বাঁচতে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে হয়েছিল সাময়িকভাবে। সেই অধ্যায় শেষে আবার শুরু হচ্ছে লাল বলে তার নতুন পর্ব।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দলে তাকে রাখা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে তার একাদশে থাকার সম্ভাবনাও প্রবল। অভিজাত এই সংস্করণে ফেরার আনন্দ ছুঁয়ে গেছে তাসকিনকে।

রোববার (৪ মে) গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তাসকিন বলেন, ‘আমি আসলেই অনেক রোমাঞ্চিত। কারণ টেস্ট ক্রিকেটের একটা মজা আছে। সেই মজার একটা টান আছে।’

এরপর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সবশেষ সিরিজে সেরা খেলোয়াড় ছিলাম। দারুণ বোলিং করেছিলাম। উইকেট পেস বোলিং সহায়ক ছিল। বোলিং করেও তৃপ্তি পেয়েছিলাম। বাংলাদেশেও স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

সবশেষ ওই সিরিজে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন, দেশের বাইরে যা বাংলাদেশের কোনো পেসারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। দুই টেস্টে ১১ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যান অব দা সিরিজ।

অমন বোলিংয়ের পর আর টেস্ট খেলতে না পারার দুঃখ তার আছে। এখন ফেরার দুয়ারে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত বোলিংয়ের সেই আনন্দ ফিরে পাওয়ার আশায়।

তাসকিন বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে দু’টি টেস্ট খেলেছি। পেসারদের সহায়তা থাকলেও বেশ উইকেটগুলো হার্ড উইকেট ছিল। আমার হিলের ইনজুরি সেখান থেকেই শুরু হয়েছে। তারপরও টেস্ট ক্রিকেটের মজাটা ভিন্ন। বিভিন্নরকম পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হয়, কষ্ট হচ্ছে, হাঁপাচ্ছি, শরীর চলছে না, গা ব্যথা, তার পরও সবটুকু দিয়ে পরের ডেলিভারিটি করছি, এটিই ক্রিকেটের সৌন্দর্য, বোলিংয়ের আনন্দ।’

তিনি বলেন, ‘যত খুশি বোলিং করা যায়। মন ভরে বোলিং করা যায়। কখনো কখনো শরীর সায় দেয় না, তবু মজাটা অনেক। কষ্ট তো হবেই, এবারও হবে। আমার নিগলস আগের চেয়ে বেড়েছে আরো। তবে ম্যানেজ করার মতো।’

উল্লেখ্য, টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স প্রায় সাড়ে ৯ বছর হলেও চোট-জর্জর ক্যারিয়ারে তাসকিন খেলতে পেরেছেন মোটে ১৭ ম্যাচ। আর একটি উইকেট নিয়ে পূর্ণ হবে তার ৫০ উইকেট।