সবার আগে ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিপিএলে অংশগ্রহণই হুমকির মুখে পড়ে যাওয়া দলটা হেসেখেলেই পৌঁছে গেছে শিরোপার শেষ লড়াইয়ে। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে অপেক্ষায় রেখে ফাইনালে উঠেছে তারা।
মিরপুর স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ৬ উইকেটে হারায় চট্টগ্রাম। আগে ব্যাট করে রাজশাহী গুটিয়ে যায় শেষ বলে ১৩৩ রানে। যে লক্ষ্য ৩ বল বাকি থাকতেই ছুঁয়ে ফেলে চট্টগ্রাম।
বল হাতে ২ উইকেট নেয়ার পর ব্যাট হাতে ৯ বলে ১৯ রানের ইনিংস খেলে চট্টগ্রামের জয়ের কারিগর অধিনায়ক শেখ মেহেদি।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন হঠাৎই মালিকানা ছেড়ে দেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজি। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় তাদের অংশগ্রহণ। সেখান থেকে বিসিবি মালিকানা নিলে হালে পানি পায় দলটির ক্রিকেটাররা।
যার প্রতিদান দিতে ভুল করেনি চট্টগ্রাম। কাগজে কলমে খুব একটা ভালো মানের দল না হলেও আসর জুড়ে আছে দারুণ ছন্দ। যেই ছন্দ ধরে রেখে সরাসরি ফাইনালেও পৌঁছে গেছে তারা।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আউট হন ১৯ বলে ২১ রান করা সাহিবজাদা। পরে নবম ওভারে পরপর দুই বলে নাজমুল হোসেন শান্ত (৮) ও মুশফিকুর রহিমকে (১১) আউট করেন শেখ মেহেদি।
এরপর আকবর আলি, জিমি নিশাম, রায়ান বার্লরাও হতাশ করেন। একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলতে থাকা তামিমও ৩৭ বলে ৪১ রান করে আউট হয়ে যান। মাত্র ৯৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজশাহী।
পরে শেষ দিকে তাণ্ডব চালান আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ২ চারের সাথে তিনটি ছক্কায় ১৫ বলে তিনি খেলেন ৩২ রানের ইনিংস। রিপন মন্ডলের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। রাজশাহী পেয়ে যায় লড়াই করার পুঁজি।
তবে বল হাতে লড়াই করতে পারেনি দলটা। রয়েসয়েই খেলেন নাইম শেখ ও মির্জা বেগ। দু’জনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে আসে ৩১ রান। পরে ১২তম ওভারে ভাঙে ৬৪ রানের এই জুটি। ৩৮ বলে ৩০ রানে ফেরেন নাইম।
তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলার চেষ্টা করেন হাসান নাওয়াজ। তবে ১৪ বলে ২০ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এরপর আসিফ আলি ফিরে যান ৮ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলে।
শুরু থেকে ধীর ব্যাটিং করে ১৯তম ওভারে আউট হন ৪৭ বলে ৪৫ রান করা মির্জা। তবে মাত্র ৯ বলে ১৯ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেহেদি। ২০ রানে ২ উইকেট নেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
হেরে যাওয়ার পরেও অবশ্য ফাইনালে খেলার সুযোগ আছে রাজশাহীর। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বুধবার সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে তারা।



