বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে মাঠে ফিরেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ পাচ্ছেন অজি পেসার মিচেল স্টার্ক। দীর্ঘ সাত মাস পর সাদা পোশাকে ফিরতে যাওয়া এই গতিতারকার সামনে এখন একাধিক রেকর্ডের হাতছানি।
বর্তমানে ১০৫ টেস্টে স্টার্কের উইকেট ৪৩৩টি। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম উইকেট পেলেই স্পর্শ করবেন ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবের ৪৩৪ উইকেটের মাইলফলক। আর ৭ উইকেট শিকার করলে পেরিয়ে যাবেন প্রোটিয়া কিংবদন্তি ডেইল স্টেইনকে।
তাতে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী পেসারদের তালিকায় উঠে যাবেন পঞ্চম স্থানে ও জায়গা করে নেবেন সর্বকালের সেরা ১০ উইকেট শিকারীর কাতারেও।
স্টার্কের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, এই কীর্তি গড়া মোটেও অসম্ভব নয়। গত মৌসুমে মাত্র ১৭.৩২ গড়ে ৫৫ টেস্ট উইকেট নিয়ে ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। ২০২৬ সালের অ্যালান বর্ডার মেডেলের অন্যতম দাবিদার তিনি। ২০২২ সালেও এই পুরস্কার জিতেন তিনি।
নতুন কুকাবুরা বল, নিখুঁত সিম পজিশন ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সর্বোচ্চ ব্যবহার—এই তিন অস্ত্র তাকে এখনো ভয়ঙ্কর করে রেখেছে। তবে নিজের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে স্টার্ক দেখছেন মানসিকতার পরিবর্তনকে।
অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে স্টার্ক বলেন, ‘আমার মতে আমি খারাপ বিষয়গুলো নিয়ে ছেড়ে দিতে শিখেছি। আপনি ঠিক ততোটাই ভালো নন, যতটা আপনি বা অন্যরা ভাবেন। আবার আপনি ঠিক ততটা খারাপও নয়।’
৩৬ বছর বয়সেও নিজেকে আরো পরিণত বোলার মনে করেন স্টার্ক। তার মতে, এত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকার রহস্যই হলো প্রতিনিয়ত শেখা, নিজেকে বদলানো এবং আরো উন্নতি করা।
যদিও রেকর্ডের এতো কাছে দাঁড়িয়ে, ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে খুব একটা ভাবতে চান না অজি এই পেসার। স্টার্কের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খেলা উপভোগ করা।
তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেই যদি কপিল দেব ও ডেইল স্টেইনকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন, তাহলে জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও কোর্টনি ওয়ালশের পরই উচ্চারিত হবে তার নাম।
অবশ্য তা নিয়ে তার খুব একটা ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু রেকর্ড কথা বলছে এর অর্থ আমি অনেক দিন ধরে খেলছি। ওই কিংবদন্তিদের সাথে আমার নাম উচ্চারিত হওয়া অবশ্যই সম্মানের। তবে যত দিন খেলছি, এসব রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাই না। খুব বেশি আগাম চিন্তা করারও প্রয়োজন নেই।’



