২০৭ রানের জয়ে মালয়েশিয়াকে ধবলধোলাই বাংলাদেশের

প্রথম দুই ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত হয়েছিল। তাই শেষ ম্যাচটি ছিল দাপট ধরে রেখে সিরিজ শেষ করার সুযোগ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০৭ রানের জয়ে মালয়েশিয়াকে ধবলধোলাই বাংলাদেশের
২০৭ রানের জয়ে মালয়েশিয়াকে ধবলধোলাই বাংলাদেশের |নয়া দিগন্ত

প্রথম দুই ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত হয়েছিল। তাই শেষ ম্যাচটি ছিল দাপট ধরে রেখে সিরিজ শেষ করার সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেনি অনূর্ধ্ব-২৩ টাইগাররা। বড় জয়েই ইতি টেনেছে লড়াইয়ের।

ব্যাট হাতে আদিল বিন সিদ্দিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, এরপর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে মালয়েশিয়াকে ২০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

কুয়ালালামপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হয়নি। দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও মঈনুল ইসলাম মিলে ৫১ বলে গড়েন ৮২ রানের জুটি। নবম ওভারে ৩২ বলে ৫৩ রান করে আউট হন আবরার। কিছুক্ষণ পর ৩০ রানে ফেরেন তন্ময়ও।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন আদিল বিন সিদ্দিক ও খালিদ হাসান। তৃতীয় উইকেটে ১৭৫ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে মালয়েশিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হন তারা। একপ্রান্তে আদিল খেলছিলেন বিধ্বংসী ব্যাটিং, অন্যপ্রান্তে খালিদ তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন।

মাত্র ১১১ বলে ৪ ছক্কা ও ১৪ চারে ১৬৫ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন আদিল। তার ব্যাটে চড়ে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। আদিল ফেরার পর খালিদও নিজের দায়িত্বটা ঠিকভাবে পালন করেন। ৮৬ বলে ৭৩ রানের কার্যকর ইনিংস আসে তার ব্যাট থেকে।

শেষ দিকে জিয়াউর রহমানের ১৩ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ক্যামিওতে বাংলাদেশের সংগ্রহ আরো বড় হয়। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৬৯ রান তোলে বাংলাদেশ।

৩৭০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে মালয়েশিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার সাইফুল্লাহ মালিককে ফেরান রাফিন আহমেদ। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা।

৩৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় মালয়েশিয়া। এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ। ১৫ বলে ২০ রান করা আজিজকে ফেরান বাঁহাতি চায়নাম্যান স্পিনার নুহায়েল সানদীদ। অধিনায়ক ফিরে যেতেই ফের ভেঙে পড়ে মালয়েশিয়ার ইনিংস।

শেষ পর্যন্ত ৩১ ওভার ৪ বলে মাত্র ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় তারা। বাংলাদেশের হয়ে রাফিউজ্জামান রাফি ও শেখ পারভেজ জীবন নেন তিনটি করে উইকেট। রাফির সাথে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সানদীদ ও আহরার আমিনও।

ব্যাট হাতে আদিলের ১৬৫ রান যেমন ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়, তেমনি বাংলাদেশের বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ২০৭ রানের বড় জয় পায় দলটি। তিন ম্যাচের সিরিজে মালয়েশিয়াকে কোনো প্রতিরোধ গড়ার সুযোগ না দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

সিরিজের তিন ম্যাচেই বাংলাদেশের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। শেষ ম্যাচে আদিলের ব্যাটে এসেছে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ঝড়, আর বোলাররা সেই রানকে রূপ দিয়েছে বড় জয়ে। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটিও বাংলাদেশের জন্য হয়ে থাকল আরেকটি আধিপত্যের প্রদর্শনী।