পাকিস্তানকে দাঁড়াতেই দিলেন না নাহিদ রানা। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে লন্ডভন্ড করে দেন সফরকারীদের ইনিংস। রঙিন পোশাকে প্রথমবার গড়েছেন ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি।
নাহিদ রানার এমন বিধ্বংসী বোলিংয়ে ধসে পড়েছে পাকিস্তানের ইনিংস। মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে গেছে শাহিন শাহ আফ্রিদির দল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ। এর আগে তাদের সর্বনিম্ন পুঁজি ছিল ১৬১, যা ঘটেছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে। যেখানে বাংলাদেশ জয় পায়।
৮২ রানে ৯ উইকেট হারানো পাকিস্তান এতদূর আসে ফাহিম আশরাফের কল্যাণে। শেষ দিকে একাই দলকে টানেন তিনি, করেন ৪৭ বলে ৩৭ রান। যা পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ।
শুরুতে অবশ্য এদিন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানকে দেখেশুনেই খেলতে থাকেন পাকিস্তানের দুই অভিষিক্ত ওপেনার মাআজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান।
দুজনে মিলে পার করেন ৯টি ওভার। তবে ১০ম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে আফিফ হোসেনকে ক্যাচ দেন ফারহান।
৪১ রানের জুটি ভেঙে ফারহান ফেরেন ৩৮ বলে ২৭ করে। পরের ওভারে এসে আবারো আঘাত আনেন নাহিদ। এবার তার শিকার তিনে নামা অভিষিক্ত শামিল হোসেন।
৭ বলে ৪ রান করে উইকেট কিপারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শামিল। ৪৭ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এখানেই শেষ নয়, নিজের তৃতীয় ওভারে এসেও উইকেট পান নাহিদ।
১৪তম ওভারে সাদাকাত ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৮ বলে ১৮ রান করে। চমক অব্যাহত থাকে পরের ওভারেও, ২০ বলে ১০ রান করা মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও ফেরান তিনি।
১৬ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৬৪। ১৮তম ওভারে ফিরে এসে আবারো উদযাপনের উপলক্ষ এনে দেন নাহিদ রানা, ফেরান সালমান আগাকে (৫)।
তাতেই গড়েন ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি। ওয়ানডেতে যা প্রথমবার। টেস্টে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে একবার ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
পরপর ৫ ওভারে এসে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের অনুকূলে নিয়ে আসেন নাহিদ রানা। এরপর বাকি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ।
২০তম ওভারে আব্দুল সামাদকে (০) ফেরান মিরাজ। এরপর হুসেইন তালাত ও পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদিকে সমান ৪ রানে থামান তিনি। বেরিয়ে আসে ইনিংসের লেঁজ।
লেঁজ আরেকটু ছোট করেন তাসকিন, ২৩.৫ ওভারে ওয়াসিম জুনিয়রকে ফেরান তিনি। পাকিস্তানের রান তখন মাত্র ৮২। ফলে দেখা দেয় এক শ’র আগেই তাদের গুটিয়ে দেয়ার আভাস।
তবে ফাহিম আশরাফ বাঁধ সাধেন, একপ্রান্ত থেকে একাই ৩৭ রান করে দলকে ১১৪ রানে পৌঁছে দেন। এরপর মোস্তাফিজের শিকার হয়ে থামতে হয় তাকে।



