বিরল ও প্রাণঘাতি হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) রোগের সাথে দীর্ঘ দিন লড়াইয়ের পর মারা গেলেন ৩৮ বছর বয়সী আফগানিস্তানের বাঁ-হাতি পেসার শাপুর জাদরান।
৩৯তম জন্মদিনের ঠিক একদিন আগে দিল্লির একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।
‘এইচএলএইচ’- এমন একটি রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত জানুয়ারিতে দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি হন জাদরান।
ছয় ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতা ও কাঁধ সমান লম্বা চুলের সাথে লম্বা রান আপে আগ্রাসী বোলিংয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেটে জনপ্রিয় ক্রিকেটার ছিলেন জাদরান। তার মৃত্যুতে এক বিবৃতিতে শোক জানায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি), ‘জাতীয় দলের সাবেক পেসার শাপুর জাদরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।’
এসিবি আরো জানায়, ‘আফগান ক্রিকেটের শুরুর দিকে একজন ছিলেন জাদরান। যার নিষ্ঠা, আবেগ এবং অটল অঙ্গীকার আমাদের দেশে ক্রিকেটের উত্থান ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মাঠের সাফল্যের বাইরেও জাদরান ছিলেন বহু তরুণ আফগান ক্রিকেটার এবং বিশ্বজুড়ে ভক্তদের জন্য এক সত্যিকারের অনুপ্রেরণা। তার লড়াকু মানসিকতা, দৃঢ় সংকল্প এবং ক্রিকেটর প্রতি ভালোবাসা অনেক মানুষকে আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে। একটি পুরো প্রজন্মকে আরো বড় স্বপ্ন দেখতে এবং আফগান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে বিশ্বাস করতে উৎসাহ দিয়েছিলেন তিনি।’
২০০৯ সালের আগস্টে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয় জাদরানের। পরের বছর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতেও অভিষেক হয় তার। ২০১৯ সালে ওয়ানডে এবং ২০২০ সালে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
৪৪টি ওয়ানডেতে ৪৩ উইকেট এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩৭ উইকেট শিকার করেছেন জাদরান। ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে, চার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে নয় ম্যাচে নয় উইকেট শিকার করেন তিনি।
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১৫ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন জাদরান।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) খেলেছেন জাদরান। ২০১৩ আসরে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের জার্সিতে ৮ ম্যাচে অংশ নিয়ে ১৯২ রানের বিনিময়ে ১০ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি।



