টেস্ট সিরিজের হতাশা কাটার আগেই ওয়ানডেতেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ২৫ রানের হার মেনে নিতে হয়েছে টাইগারদের।
ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। এখন সিরিজে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই। বলা যায় খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে টাইগাররা।
সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার হারারেতে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুপুর দেড়টায় মাঠে গড়াবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই।
এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ব্যাটারদের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। জিম্বাবুয়ে থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় আশরাফুল বলেন-
‘আমরা যে ধরনের পারফরম্যান্স করছি, তা আমাদের প্রত্যাশার সাথে যায় না। তবে আমি বিশ্বাস করি, ছেলেরা ভুলগুলো শুধরে নিয়ে পরের দুই ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টিতে গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।’
প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটারদের দুর্ভাগ্যও কিছুটা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। আশরাফুল বলেন, ‘যারা দ্রুত আউট’ হয়েছে, তাদের অনেকের শটই সরাসরি ফিল্ডারের হাতে গেছে।’
‘বাংলাদেশে সাধারণত বাউন্ডারি ৬০ থেকে ৬৫ মিটার হলেও এখানে সেটি ৭৩ থেকে ৭৫ মিটার। ফলে যেসব শট দেশে সহজেই বাউন্ডারি হয়ে যায়, এখানে সেগুলো ক্যাচে পরিণত হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকারের আউট কিছুটা দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তামিম যে জায়গায় বল পাঠাতে চেয়েছিল, অতিরিক্ত বাউন্সের কারণে সেটি ঠিকমতো হয়নি। এখানকার উইকেটে বাউন্স ও গতি দুটোই বেশি, যা আমাদের ব্যাটারদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।’
জিম্বাবুয়ের বোলিং ইউনিটেরও প্রশংসা করেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। তার ভাষায়, ‘তাদের চারজন পেসারই খুব ভালো লাইন-লেংথে বল করছে। উচ্চতার সুবিধা নিয়ে তারা বাড়তি বাউন্স আদায় করছে। এমন কন্ডিশনে ব্যাটিং সহজ নয়।’
বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে ব্যাটারদের ভালো পারফরম্যান্সের কথাও মনে করিয়ে দেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘আমরা গত কয়েক মাস ভালো উইকেটে ভালো ক্রিকেট খেলেছি।’
‘কিন্তু এখানকার আবহাওয়া ও উইকেট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশে এখন গরম, আর এখানে বেশ ঠান্ডা। সবাই মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। অনুশীলনেও ছেলেরা ভালো করছে, কিন্তু ম্যাচে সেটার প্রতিফলন দেখা যায়নি।’
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাওহীদ হৃদয় ছাড়া আর কোনো ব্যাটার উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলতে পারেননি।
টেস্ট সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতার যে ধারা দেখা গিয়েছিল, ওয়ানডেতেও তার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তবে সিরিজ এখনো বাংলাদেশের নাগালের বাইরে যায়নি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় পেলে শেষ ম্যাচটি রূপ নেবে অঘোষিত ফাইনালে।
তাই হারারে স্পোর্টস ক্লাবের ম্যাচটি টাইগারদের জন্য এখন ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। ব্যাটাররা ছন্দে ফিরতে পারলে সিরিজে সমতা ফেরানোর স্বপ্নও বেঁচে থাকবে।



