টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচ জিতে রীতিমতো আকাশে উড়ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচে চারটি ও সুপার এইটেও তিন ম্যাচের সবগুলোতেই জেতে তারা।
তবে সেমিফাইনালে এসেই বড় ধাক্কা খেল তারা। এক ঝটকায় প্রোটিয়াদের মাটিতে নামিয়ে এনেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ চারে এসে জয়রথ থামল দক্ষিণ আফ্রিকার।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের সামনে পাত্তাই পায়নি তারা। মার্কো জানসেনের ঝড়ো ফিফটিতে ১৬৯ রানের পুঁজি দাঁড় করালেও, তা যথেষ্ট হয়নি।
ফিন অ্যালেনের তাণ্ডবে সেটিকে মামুলিই বানিয়ে দেয় কিউইরা। মাত্র ১২.৫ ওভারে ৯ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় তারা। নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়বারের মতো উঠে যায় ফাইনালে।
ম্যাচ শেষে তাই আক্ষেপ ও হতাশা একদমই লুকালেন না এইডেন মার্করাম। প্রোটিয়া অধিনায়কের কাছে এটি মুখে চড় খাওয়ার মতো অনুভূতি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘হারটা অবশ্যই অনেক বেশি হতাশার, অনেক বড় ধাক্কা। এটি হয়তো মুখে চড় মারার মতো নয়, কিন্তু তেমনই অনুভূত হচ্ছে।’ তবে হেরেও থামছেন না তিনি।
দলকে অনুপ্রেরণা দিয়ে প্রোটিয়া অধিনায়ক আশ্বাস দিলেন ঘুরে দাঁড়ানোর। ‘দিন শেষে আমাদের আরো শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে ও দল হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
প্রোটিয়া অধিনায়ক অবশ্য আগেই বুঝতে পেরেছিলেন ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট ভালো থাকবে ও প্রথাগত পদ্ধতিতে খেলতে পারলে ১৯০ রানের আশপাশে করা সম্ভব।
কিন্তু ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি তারা। যা ফিন অ্যালেন ৩৩ বলে ১০০ রানের ইনিংসে আরো সহজ হয়ে যায়।
অ্যালেন গড়েন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এই উইকেটে যথেষ্ট রান করতে না পারার কারণেই পরাজয়ের কথা বললেন মার্করাম।
তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে এটি পর্যালোচনা করব। আমরা বুঝতে পারছিলাম উইকেট ভালো থাকবে। তাই দ্রুত মানিয়ে নিয়ে, প্রথাগতভাবে খেলে গেলেও হতো। কোনোভাবে ১৯০ রান করতে পারলেও হয়তো ম্যাচে থাকা যেত। এই ফলে হতাশ। তবে ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত। তারা টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলেছে।’



