দেখতে দেখতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ বছর পার করলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল লাল-সবুজের জার্সিতে এ পথচলা শুরু হয়েছিল তার।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। মাঝের সময়টা গেছে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে।
যদিও যতদূর যেতে পারতেন মোস্তাফিজ, ততটা যাওয়া হয়নি তার। তবে বলাই যায় ভাঙা-গড়ার এই খেলায় দোর্দণ্ড প্রতাপে টিকে আছেন মোস্তাফিজ। এখন পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটের বিস্ময় তিনি।
সদ্য শেষ হওয়া নিউজিল্যান্ড সিরিজে মাত্র এক ম্যাচে মাঠে নেমেই দেখান নিজের ঝলক। ৪৩ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। যা ওয়ানডেতে তার ষষ্ঠবার ৫ উইকেট শিকার।
মোস্তাফিজের অভিষেকের পর থেকে (২০১৫) এখন পর্যন্ত আর কোনো ক্রিকেটার এতবার ৫ উইকেট নিতে পারেননি ওয়ানডেতে। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বের সেরা বোলারদের একজন তিনি।
টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ডট দেয়ার রেকর্ড যেমন তার দখলে, তেমনি পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেটও তার। ১২৬ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ১৫৮ উইকেট। আর ১২০ ওয়ানডেতে ১৮৭ ও ১৫ টেস্টে তার শিকার ৩১ উইকেট।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে বিশ্বের নামিদামি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতেও নিয়মিত খেলে বেড়ান মোস্তাফিজ। যেখানে তার ব্যাপক চাহিদা।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ছাড়াও, পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), আইএল টি-টোয়েন্টি, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল), ভাইটালিটি ব্লাস্টসিহ কাউন্টি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার।
সব মিলিয়ে ১১ বছরের এই পথচলাটা বলা যায় বেশ ভালোই ছিল মোস্তাফিজের। তবে পরিশ্রম আর ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে সামনে আরো সমৃদ্ধ করতে চান তিনি।
বিশেষ এই দিন উপলক্ষে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে নিজের ছবি পোস্ট করে মোস্তাফিজ লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! গর্বের সাথে এই জার্সি পরে ১১ বছরের পথচলা। ’
‘এটা ছিল ত্যাগ, আত্মোন্নয়ন আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তে ভরা এক যাত্রা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। যেন আমি দেশের জন্য সর্বোচ্চটা দিতে পারি এবং আপনাদের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হই।’



