মেহেদী মিরাজের সমালোচনায় ভারত-পাকিস্তানের সাবেকরা

এরপর তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও এমন পরিস্থিতির সামনে পড়লে তারা যেন মিরাজের মতো কিছু না করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সালমানকে মিরাজের আউট করার ধরনটা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে
সালমানকে মিরাজের আউট করার ধরনটা অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে |সংগৃহীত

মেহেদী মিরাজ ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ আচরণ করেছেন কি না, তা নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। পক্ষে-বিপক্ষে আসছে নানা মন্তব্য। যা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বই এখন দুই ভাগে বিভক্ত।

সালমান আগার বিতর্কিত ‘রান আউট’ ঘটনায় মিরাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা ও সমর্থন—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।

এই ঘটনায় ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফও মন্তব্য করেছেন। মিরাজের করা রান আউটকে কোনোভাবেই হজম করতে পারছেন না তিনি। এমন ঘটনা অগ্রহণযোগ্য বলে মত তার।

কাইফ লেখেন, ‘এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। উইকেট নেয়ার যতই মরিয়া চেষ্টা থাকুক না কেন, এমন রান–আউটকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। তাও আবার একজন অধিনায়কের কাছ থেকে।’

এরপর তিনি তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও এমন পরিস্থিতির সামনে পড়লে তারা যেন মিরাজের মতো কিছু না করে।

কাইফ লেখেন, ‘তরুণ খেলোয়াড়রা মনে রাখুক— এমনকি যদি বিশ্বকাপ ফাইনালও নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবুও বাংলাদেশ অধিনায়ক যা করেছেন, কখনো তা করো না। ন্যায্যতা ছাড়া খেলাধুলা আসলে কোনো খেলাই নয়।’

এ ছাড়া সালমানকে যখন রান আউট করা হয়, তখনই কমেন্ট্রি বক্স থেকে বেশ কড়া মন্তব্য করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা।

স্পষ্টই বলেন, ‘মিরাজের এমন আউট, ক্রিকেটের স্পোর্টসম্যানশিপের ওপর চরম আঘাত। এমন ঘটনায় নষ্ট হয় ক্রিকেটের সৌন্দর্য।’

এদিকে ভারতের আরেক সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজা লিখেন, ‘ম্যাথিউসকে টাইমড আউট থেকে শুরু কর সালমানের বিতর্কিত রান আউট, দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশকে ভরসা করাটাই অপরাধ!’

পাকিস্তানের সাবেক উইকেটরক্ষক ব্যাটার কামরান আকমল টেনে আনেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক ব্যাটার মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রসঙ্গ, ‘মহেন্দ্র সিং ধোনি একবার ইয়ান বেলকে রান আউটের পর ফিরিয়ে এনেছিলেন।’

‘এরপর এমএস ধোনি যখন আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে যাচ্ছিলেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছিল। এটাই স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’- যোগ করেন তিনি।

মিরাজের সমালোচনা এসেছে সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটার আহমেদ শেহজাদের কাছ থেকেও। নিজের এক ভিডিওতে শেহজাদ বলেন, ‘মিরাজ একজন ভালো খেলোয়াড়, বুদ্ধিমান খেলোয়াড়। কিন্তু এই কাজটা সে একদমই বাচ্চাদের মতো করেছে। মনে হচ্ছিল গলি ক্রিকেটের দুইটা দল নিজেদের মধ্যে খেলছে। দুই বোর্ডেরই এটা দেখা উচিত।’

উল্লেখ্য, ঘটনাটা ছিল পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার শক্ত জুটিতে রান তখন এক শ’ ছাড়িয়েছে। যা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা।

এরই মাঝে সেই ওভারের চতুর্থ বলটা সামনের দিকে খেলেছিলেন রিজওয়ান। পা দিয়ে তা থামিয়ে দেন মিরাজ। সে সময় নন স্ট্রাইক প্রান্ত ছেড়ে দাগের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সালমান। বল চলে যায় তার কাছে।

একই সময়ে সালমান–মিরাজ দুজনই বলের দিকে হাত বাড়ালেও মিরাজই তা আগে তুলে নেন, এরপর আন্ডার আর্ম থ্রোতে ভেঙে দেন স্টাম্প। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত আসে আউট।

এই জুটি ভাঙার পর অবশ্য পাকিস্তান আর বেশিদূর যেতে পারেনি। ৪৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় ২৭৪ রানে। তবে এই রান তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।

বাংলাদেশ দল ১১৪ রানে অল আউট হয়ে যায়। বৃষ্টি আইনে ১২৮ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে দল মাঠ ছাড়লেও এই রান আউটবিতর্ক পিছু ছাড়েনি।