ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের না, আইসিসির সামনে ৩ পথ

ক্রিকবাজের সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী দুই দিন আইসিসি কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বৈঠক চলবে। এর পরেই বোঝা যাবে আসলে কী হতে যাচ্ছে আগামী বিশ্বকাপে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল ভারতে যাচ্ছে না, তা এখন নিশ্চিত। নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রতিবেশী দেশটিতে না যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। তবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার পথ এখনি শেষ হয়ে যাচ্ছে না, বল এখন আছে আইসিসির কোর্টে।

বাংলাদেশের দাবি বেশ গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছে আইসিসি। পরিস্থিতি অনুধাবন করে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু বদলে দিতে পারে সংস্থাটি। এমনটাই জানাচ্ছে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। তবে ঘটতে পারে ভিন্ন ঘটনাও।

সব মিলিয়ে তিনটি পথ আছে আইসিসির সামনে। যেখানে কেবল শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলাটাই বাংলাদেশের পক্ষে। বাকি দুই পথের কোনোটাতেই হাঁটতে চাইবে বা টাইগাররা।

প্রথম পথ: ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে দেয়া হতে পারে শ্রীলঙ্কায়। ৭ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক তারা। আগের চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে খেলতে যাবে না পাকিস্তান।

তাদের সব ম্যাচই শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত হবে। গতবছর নারী বিশ্বকাপেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। ফলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোও সেখানে আয়োজন করা যেতে পারে। তবে বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের সব ম্যাচ এখন ভারতে।

গ্রুপ ‘সি’-তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে ও ১৪ ফেব্রুয়ারি খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে। এমতাবস্থায় ভেন্যুপরিবর্তন হলে পুরো টুর্নামেন্টের সূচিতেই এর প্রভাব পড়বে নিশ্চিতভাবেই।

দ্বিতীয় পথ: এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পয়েন্ট হারাতে হতে পারে। অর্থাৎ ভারতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচগুলো ছেড়ে দিতে হতে পারে। এতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দলগুলো এমনিতেই ২ পয়েন্ট করে পেয়ে যাবে। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন ঘটনা বহু আছে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ১৯৯৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি। আর ২০০৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড ওয়াকওভার দিয়েছিল যথাক্রমে কেনিয়া এবং জিম্বাবুয়েকে। ফলে সেবার প্রতিপক্ষ দলগুলো পয়েন্ট পায় না খেলেই।

এ ধরনের ঘটনায় টুর্নামেন্ট কার্যত ১৯ দলের হয়ে পড়বে। শুরুর আগেই টুর্নামেন্ট নিশ্চিতভাবে আকর্ষণ হারাবে অনেকটাই।

তৃতীয় পথ: বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকেই বাতিল করে দিতে পারে আইসিসি। সে ক্ষেত্রে অন্য একটি দেশকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেয়া হবে। এমনটা ঘটনাও আগে দেখা গেছে। তাও আবার বাংলাদেশেই।

২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশে খেলতে আসেনি অস্ট্রেলিয়া। পরে তাদের বাদ দিয়ে আয়ারল্যান্ডকে নেয়া হয়। এছাড়া ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে সরে যাওয়ায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার নজির আছে।

প্রসঙ্গত, ক্রিকবাজের সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী দুই দিন আইসিসি কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বৈঠক চলবে। এর পরেই বোঝা যাবে আসলে কী হতে যাচ্ছে আগামী বিশ্বকাপে।