বিদায় ঘোষণায় নিজেকে গর্বিত মুসলমান দাবি উসমান খাজার

বিদায় ঘোষণার বক্তব্যে নিজেকে গর্বিত মুসলিম দাবি করে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার এই প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
উসমান খাজা
উসমান খাজা |সংগৃহীত

যেভাবে সবকিছু হচ্ছিল, অবসরের ঘোষণা অনুমেয়ই ছিল। শেষ পর্যন্ত হলোও তাই, আলোচনা-সমালোচনার সমাপ্তি ঘটিয়ে অবসরের ঘোষণা দিলেন উসমান খাজা।

অ্যাশেজ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলছেন তিনি।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আগামী রোববার শুরু হবে অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট। এই টেস্টই হবে অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটারের শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ। গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।

গতকাল সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে পাশে রেখে অবসরের ঘোষণা দিয়ে খাজা বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করতে এসেছি যে এসসিজি টেস্টের পর আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।’

‘আল্লাহ ক্রিকেটের মাধ্যমে আমাকে যা কিছু দিয়েছেন তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। তিনি আমাকে এমন স্মৃতি দিয়েছেন যা আমি চিরকাল মনে রাখব, এমন বন্ধুত্ব যা খেলার বাইরে গিয়েও প্রভাব ফেলে। এমন শিক্ষা যা আমাকে গড়ে তুলেছে।’

২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরুটা যেখান থেকে করেছিলেন, সেই সিডনিকেই বিদায়ের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন খাজা। যার মাঝে থাকবে ৮৭টি টেস্ট ম্যাচ ও ছয় হাজারের বেশি (৬২০৬) রান।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি খুশি যে নিজের মতো করে বিদায় নিতে পারছি ও কিছুটা মর্যাদা নিয়ে। এবং আমার প্রিয় এই এসসিজিতেই শেষ করতে পারছি। তবে আমার মনে হয় এই সিরিজের শুরুটা বেশ কঠিন ছিল।’

‘অ্যাডিলেডে গিয়ে যখন দেখলাম শুরুতে আমি একাদশে নেই, সেটাই সম্ভবত আমার জন্য সংকেত ছিল যে- ঠিক আছে, এবার এগিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।’

অ্যাডিলেড টেস্টে না থাকলেও স্টিভ স্মিথ অসুস্থ হয়ে বাদ পড়ায় খাজা আবার সুযোগ পান মেলবোর্ন টেস্টে। তবে সুবিধা করতে পারেননি, দুই ইনিংসে করেন ২৯ ও ০। এমতাবস্থায় সিডনিতেই থেমে যাচ্ছেন খাজা।

খাজা বলেন, ‘সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় ছিল যে, মনে হচ্ছিল মানুষ আমাকে আক্রমণ করছে। মনে হচ্ছিল তারা বলছে আমি দলে টিকে থাকার জন্য স্বার্থপরতা করছি। কিন্তু আমি নিজের জন্য দলে থাকছিলাম না।’

এদিকে ৩৯ বছর বয়সী খাজা ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম টেস্ট ক্রিকেটার। তবে তার জন্য যে পথটা খুব একটা ভালো ছিলো না, তাও স্বীকার করেন বিদায় বেলায়। বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে খাজা বলেন, ‘মিডিয়া ও সাবেকরা আমাকে যেভাবে আক্রমণ করেছে, সেটা কয়েক দিন সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু পাঁচ দিন ধরে চলল। আমার প্রস্তুতি নিয়ে আক্রমণ করেছে। বলেছে, দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়, শুধু নিজের কথাই ভাবে। গলফ খেলে। স্বার্থপর। কঠোর অনুশীলন করে না। আলসে। এগুলো সেই একই রকম বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপ।’

‘ভেবেছিলাম আমরা এগুলো পেছনে ফেলে এসেছি। কিন্তু স্পষ্টতই আমরা এটা পুরোপুরি পেছনে ফেলতে পারিনি। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলে এর আগে আমি কাউকে এমন আচরণের শিকার হতে দেখিনি।’

এরপর খাজা বলেন, ‘আমি পাকিস্তান থেকে আসা একজন গর্বিত মুসলিম। যাকে বলা হয়েছিল যে কখনো অস্ট্রেলিয়া দলের হয়ে খেলতে পারবে না। কিন্তু এখন আমাকে দেখুন, ঠিক একই কাজ আপনিও করতে পারবেন।’