হঠাৎ করে কেউ স্কোর দেখলে ভাবতে পারে দুঃস্বপ্ন। দুঃস্বপ্ন না হলেও এর চেয়েও কম কিছু নয়! অজিরা প্রতিশোধ নেবে এভাবে! প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে গুড়িয়ে দেবে টাইগারদের আত্মবিশ্বাস!
একটা সময় তো মনে হচ্ছিলো হয়তো টেস্টে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জার রেকর্ড নতুন করে লিখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যদিও শেষ পর্যন্ত তা এড়ানো গেছে ৷ তবে টাইগাররা আটকে গেছে ৩৪ ওভারে মাত্র ৬৪ রানেই।
ম্যাকাইয়ে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬.৪ ওভারে মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ধাক্কা দেন মিচেল স্টার্ক। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর মুমিনুল হক ও লিটন দাসও স্টার্কের শিকার হন। মাত্র ২২ বলের মাঝে ৫ উইকেট নেন স্টার্ক!
টেস্ট ক্রিকেটে এটি পাঁচ উইকেট পাওয়ার অন্যতম দ্রুততম ঘটনা। আর তার এমন কীর্তিতে ধসে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। মধ্যাহ্নভোজে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৫/৬। যার ৪ জনই আউট হন ০ রানে!
কেবল মুমিনুল হক ১৬ বলে ৯ ও মুশফিকুর রহিমের ৪২ বলে ৫— রানের দেখা পান। ৪৮ বলে ১১ রান নিয়ে বিরতিতে যান মেহেদী মিরাজ। তবে বিরতি থেকে ফিরে রান আর বাড়াতে পারেননি তিনি, শিকার হন প্যাট কামিন্সের।
এরপর দ্রুত আরো দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদ ৩৬ বলে ১০ ও তাসকিন আহমেদ ৭ বলে ১ রান করেন। ২৮.১ ওভারে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারায় সফরকারীরা। তখন উঁকি দিতে থাকে আরো একটা লজ্জা।
মনে হচ্ছিলো হয়তো ভাঙতে যাচ্ছে টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের (বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৮) লজ্জা। তবে শেষ উইকেট জুটিতে তাও এড়ানো গেছে। শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম মিলে টেনেছেন দলকে।
তাদের দু'জনের ব্যাটে পঞ্চাশ পেরোয় বাংলাদেশের ইনিংস। পেরোয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২২ সালে করা ৫ও ও ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জাও।
৩৪ ওভারের শেষ বলে স্টার্ককে ৬ষ্ঠ উইকেট উপহার দেন শরিফুল ইসলাম। তবে সবার শেষে ব্যাট করতে নামা শরিফুলই দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন- ১৪। এছাড়া ১১ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।
মাত্র ১২ রানে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। এছাড়া প্যাট কামিন্স ৩ ও জশ হ্যাজলউড নেন অন্য উইকেটটি।



