পাকিস্তানের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন

আর শুক্রবার তৃতীয় দিনে এসে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন দেখাল তারা। দলটিই এদিনে যোগ করেছে ৩৯৭ রান, শেষ দিকে রাজাউল্লাহ ও মোহাম্মদ আব্বাসের ১২১ রানের নবম উইকেট জুটিই এনে দিয়েছে ম্যাচে নাটকীয় মোড়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাজাউল্লাহ
রাজাউল্লাহ |সংগৃহীত

দুই দিন শেষেই যেখানে ছিল ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা, সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন পাকিস্তানের। প্রথম ইনিংসে ৩২০ রানে পিছিয়ে পড়েও তৃতীয় দিনের শেষে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে তারা। ফিরেছে লড়াইয়ে।

আজান আওয়াইস, শান মাসুদ ও বাবর আজমের ফিফটির পর অভিষিক্ত রাজাউল্লাহর ৬৩ বলে ৮১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ৪৪৯ রান করেছে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের সামনে তাই জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৩০ রান।

আগের টানা পাঁচ ইনিংসে ২০০ রানও করতে পারেনি পাকিস্তান। এই ইনিংসেও শুরুটা ভালো ছিলো না, রানের খাতা খোলার আগেই হারায় জোড়া উইকেট। যদিও এরপর আর উইকেট না হারিয়ে ৫২ রান তুল্র দ্বিতীয় দিন শেষ করে পাকিস্তান।

আর শুক্রবার তৃতীয় দিনে এসে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন দেখাল তারা। দলটিই এদিনে যোগ করেছে ৩৯৭ রান, শেষ দিকে রাজাউল্লাহ ও মোহাম্মদ আব্বাসের ১২১ রানের নবম উইকেট জুটিই এনে দিয়েছে ম্যাচে নাটকীয় মোড়।

আর তাতেই শেষ পর্যন্ত ১২৯ রানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাকিস্তান। যার শুরুটা হয় অবশ্য আজান আওয়াইস ও অধিনায়ক শান মাসুদের ব্যাটে। নতুন দিনে ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নেন দুইজনে। নিজেদের অর্ধশতকও পূর্ণ করেন তারা।

দলীয় ২০৩ রানে ভাঙে তাদের ৭০ রানের জুটি। ড্যান লরেন্সের বলে ৭৭ রানে থামেন আওয়াইস। এরপর বাবর আজমকে নিয়ে ৮৯ রানের জুটি গড়েন শান। চলতি সিরিজে ব্যাট হাতে বিবর্ণ থাকা পাকিস্তান অধিনায়ক এদিন ছিলেন দারুণ ছন্দে।

তবে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে লরেন্সের অসাধারণ ক্যাচে থামতে হয় তাকে। ৯৫ রান করেন শান। বাবরও ইনিংস বড় করতে পারেননি, থিতু হয়েও ৭৬ রানে ফেরেন তিনি। ইনিংস টানতে পারেননি সৌদ শাকিলও (২৯)।

৩০৬ রানে ৬ উইকেট হারায় পাকিস্তান। অথচ দিনের শেষ সেশনে এক সময় পাঁচ উইকেট হাতে রেখে ইংল্যান্ডের চেয়ে মাত্র ২৩ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। কিন্তু দ্রুত তিন উইকেট তুলে নিয়ে আবারো পাকিস্তানকে চাপে ফেলে ইংল্যান্ড।

সৌদ শাকিলের পর গাজী ঘোরি ও মোহাম্মদ ইমরান ফিরে গেলে পাকিস্তানের হাতে থাকে মাত্র দুই উইকেট। সেখানেই ম্যাচের গল্প বদলে দেন অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ। ২১ বছর বয়সী এই পেসার ব্যাট হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালান।

মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে হাঁকান ৯টি ছক্কা। টেস্ট অভিষেকে কোনো ব্যাটারের সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডও গড়েন তিনি। গাস অ্যাটকিনসনের এক ওভারেই তিনটি ছক্কা মারেন রাজাউল্লাহ। পূর্ণ করেন ফিফটি।

অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ আব্বাসও ছিলেন দৃঢ়। নবম উইকেটে দুইজন মিলে যোগ করেন ১২১ রান। এই জুটিতেই ইংল্যান্ডের লিড পেরিয়ে যায় পাকিস্তান, একইসাথে ম্যাচে বড় লিডও পেয়ে যায় তারা।

৪২ রানে আব্বাস জশ টাংয়ের বলে ফিরলেও পাকিস্তানের লিড আরো বাড়িয়ে দেন রাজাউল্লাহ। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে রাজাউল্লাহ করেন ৮১ রান। তাতে ৪৪৯ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

প্রথম ইনিংসে ৩২০ রানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত পায় ১২৯ রানের লিড। ইংল্যান্ডের হয়ে গাস অ্যাটকিনসন নেন ৩ উইকেট, ড্যান লরেন্স ২টি। তবে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড এদিন আর ব্যাটে নামেননি। শনিবার চতুর্থ দিনে জয়ের লক্ষ্যেই নামবে তারা।