শীতের সন্ধ্যায় উত্তাপ ছড়াতে মুখোমুখি হয়েছিল রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। উত্তাপ ছড়ালোও ঢের, টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটা গড়ালো সুপার ওভারে। যেখানে শেষ হাসি রাজশাহীর, হাসালেন রিপন মণ্ডল।
সিলেটে টসে হেরে আগে ব্যাট করে রাজশাহী। তবে ভালো শুরুর পরও ৮ উইকেটে ১৫৯ রানেই শেষ হয় তাদের ইনিংস। রংপুরের ইনিংসে ছিল আরো নাটকীয়কতা, ৬ উইকেটে তারাও করে সমান ১৫৯।
অথচ জয়ের জন্য শেষ ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭ রান। তবে খুশদিল শাহ, মাহমুদউল্লাহ ও নুরুল হাসান সোহান মিলে রিপনের বিপরীতে মাত্র ৬ রান নিতে পারেন। জোড়া উইকেট নেন রিপন। খেলা গড়ায় সুপার ওভারে।
সেখানেও রিপনকেই বেছে নেয় রাজশাহী। চমৎকার বোলিংয়ে সুপার ওভারেও মাত্র ৬ রান দেন এই পেসার, যা সহজেই করে ফেলেন রাজশাহীর তানজিদ তামিম। ৩ বল বাকি থাকতেই জেতে রাজশাহী।
এর আগে, টসে হেরপ ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুণ পেয়েছিল রাজশাহী। মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১২ ওভারেই পেরিয়ে যায় তিন অঙ্কের গণ্ডি। সাহিবজাদা ফারহান ও নাজমুল হোসেন শান্ত দেখান বড় পুঁজির স্বপ্ন।
তবে বাকিদের ব্যর্থতায় তত বড় সংগ্রহ পায়নি তারা। সাহিবজাদা ৪৬ বলে ৬৫ ও শান্ত করেন ৩০ বলে ৪১ রান। এরপর মোহাম্মদ নাওয়াজ (১০) ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কেও যেতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় রাজশাহী।
শেষ ৪৬ বলে ৫৪ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারায় তারা। ফাহিম আশরাফ ৩ ও আলিস আল ইসলাম নেন ১৬ রানে ২ উইকেট। দেড় শ’ পেরোতেই আটকে যায় রাজশাহী।
রান তাড়ায় শুরুতেই ফিরেন লিটন দাস (১১ বলে ১৬)। তবে দলের ওপর চাপ আসতে দেননি তাওহিদ হৃদয় ও ডেভিড মালান। দু’জন রয়েসয়ে খেলে গড়েন ৭২ বলে ১০০ রানের জুটি। ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়।
এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি। মেহরাব হাসানের বলে সীমানায় ধরা পড়েন ৩৯ বলে ৫৩ রান করে। হৃদয়ের বিদায়ের পর ৪৩ বলে পূর্ণ হয় মালানের পঞ্চাশ। ১৭ ওভার শেষে স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৩৮।
শেষ ১৮ বলে তখন প্রয়োজন ছিল ২২ রান, হাতে ৮ উইকেট। এমতাবস্থায় চার নম্বরে নামা কাইল মায়ার্স ফেরেন (৯)। মেহরাবের ১৮তম ওভার থেকে আসে মাত্র ২ রান। সমীকরণ তখন ২ ওভারে ২০ রানের।
কিন্তু ১৯তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোকে দু’টি চার মেরে শেষ ওভারে ৭ রানে নামিয়ে ফেলেন মালান ও খুশদিল শাহ। শেষ ওভার করতে আসে ৩ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ফেলা রিপন। তবে এবার তিনি যেন বদলে গেছেন পুরোদমে।
তার প্রথম বলে খুশদিল ফিরে গেলে রোমাঞ্চ ফেরে ম্যাচে। তবে ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে দেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। এক বল পর তিনি নেন আরো ২ রান। ২ বলে লাগে তখন ১ রান।
কিন্তু পঞ্চম বলে ফ্লিক করে মিড উইকেটে ক্যাচ দেন রংপুর অধিনায়ক। শেষ বলে ১ রানের জন্য ব্যাট করতে নামেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু তিনি সেটি নিতে পারেননি। উল্টো রান আউট হন। ম্যাচ গড়ায় তাতে সুপার ওভারে।
যেখানেও নায়ক হয়ে উঠেন রিপন। গত নভেম্বরে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারসের সেমি ফাইনাল ও ফাইনালে ‘এ’ দলের হয়ে পরপর দু’টি সুপার ওভার করেছিলেন রিপন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগান তিনি এবার বিপিএলে।



