আসন্ন আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে ব্যাট-বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
সপ্তমবারের মতো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ১৮ বছর বয়সে এই প্রতিযোগিতায় অভিষেক হয় জ্যোতির। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন তিনি। আর তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়াকে সুযোগকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন জ্যোতি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) জন্য লেখা নিজের কলামে জ্যোতি লিখেছেন, ‘সবচেয়ে সন্তোষজনক বিষয় হলো আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতি এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা এবং দলের মধ্যে যে দারুণ বন্ধন ও দলীয় চেতনা তৈরি হচ্ছে, তা দেখা।’
বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। আইসিসি ইভেন্টগুলোতে ভালো রেকর্ড আছে দলগুলোর। গ্রুপে থাকা দলগুলো শক্তিশালী হলেও নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ, এমনটাই মনে করেন জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যেকোনো ম্যাচ জিততে পারি এবং আমরা আমাদের সেরা টুর্নামেন্ট খেলার আশা করছি।’
গ্রুপ পর্বে নবাগত নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাছাইপর্বে ডাচদের হারিয়েছিল তারা। জ্যোতি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও আমাদের ম্যাচ আছে। যারা এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে। বাছাইপর্বে তাদের হারানোর অভিজ্ঞতা আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। বাছাইপর্বে প্রতিটি ম্যাচ জেতা আমাদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করাটাও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ নারী ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি, তবে অনেক খেলোয়াড়ই ব্যক্তিগতভাবে ভালো পারফরম্যান্স করেছে।’
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে বর্তমানে এডিনবার্গে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। ইতোমধ্যে দুই ম্যাচ খেলে দু’টিতেই হেরেছে তারা।
ইংল্যান্ডের কন্ডিশন নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আমরা কেমন করতে পারি, সেটি দেখার জন্য সবাই উদগ্রীব হয়ে আছে।’
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বাড়ানো হয়েছে। প্রাইজমানি বাড়ানোয় খুশি জ্যোতি। তিনি বলেন, ‘এবারের টুর্নামেন্টে প্রাইজমানি বাড়ানো হয়েছে। এটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট ক্রিকেটের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফরম্যাট নিয়ে খেলোয়াড় ও দর্শকদের আগ্রহও অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটের বিকাশে এটির বড় অবদান রয়েছে। আমরা এই যাত্রার অংশ হতে পেরে আনন্দিত।’
১২ জুন থেকে শুরু হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে আগের ৬ আসরে ২৫ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টিতে জিতেছে তারা। বাকি ২২ ম্যাচই হেরেছে টাইগ্রেসরা।
সূত্র : বাসস



