যদিও পথ দেখালেন তাসকিন আহমেদ, তবে শেষ পর্যন্ত নায়ক বনে গেলেন মেহেদী মিরাজ। ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার বোলিং নৈপুণ্যে মিরপুর টেস্টে লিড নিলো বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে আগে ব্যাট করে ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ২৭ রানের লিড টাইগারদের।
এরপর ব্যাটিংয়ে নামলেও দুই ওভার খেলা যায়নি। আলোকস্বল্পতার কারণে ১.৫ ওভারে ৭ রান তুলতেই শেষ হয়েছে দিনের খেলা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৪ রানে।
পাকিস্তানকে গুটিয়ে দিতে ক্যারিয়ারে ১৪তম বারের মতো ৫ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম নেন ২টি করে উইকেট। ১ উইকেট নেন নাহিদ রানা।
এর আগে রোববার দিনের শুরুতে হাত মেলানোর উপলক্ষ এনে দেন তাসকিন। আজান আওয়াইসকে ফিরিয়ে পান প্রথম সাফল্য। ভাঙে ১০৪ রানের জুটি। তবে ফেরার আগে দারুণ কীর্তি গড়ে যান আজান।
অভিষেকেই তিন অঙ্কের দেখা পান তিনি। ১৩৩ বলে ৮৫ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করা আজান ২০ বল খেলেই পৌঁছান স্বপ্ন চূড়ায়। পাকিস্তানের ১৪তম ক্রিকেটার হিসেবে গড়েন টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি।
তবে এরপর আর ইনিংস বড় হয়নি। তাসকিনের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে দেরেন এই সেঞ্চুরিয়ান। আউট হন ১৬৫ বলে ১৪ চারে ১০৩ রান করে।
চারে নামা পাকিস্তান অধিনায়ককেও থিতু হতে দেননি তাসকিন। ১৭ বলে ৯ রান করে ফেরেন শান মাসুদ। দ্রুত ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠার আগে ফের জোড়া উইকেট হারায় পাকিস্তান।
এই ২টি উইকেট নেন মেহেদী মিরাজ। সৌদ শাকিলকে ৪ বলে শূন্য রানে ফেরানোর পর তার শিকার দারুণ ব্যাট করতে থাকা আব্দুল্লাহ ফজল। ফেরার আগে অবশ্য তিনি তুলে নেন ফিফটি।
১২০ বলে ৬০ রান করে তাইজুল ইসলামকে ক্যাচ দেন ফজল। ২০ রানের ভেতর ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান, যার মাঝে ৪ রানেই পতন হয় ৩ উইকেট। এরপর দলকে টানেন সালমান আগা ও রিজওয়ান।
প্রথম সেশনে ৭৫ রানে ৪ উইকেট তুলে নিলেও দ্বিতীয় সেশনে দাপট দেখায় পাকিস্তান। মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ৯৮ রান। সালমান ও রিজওয়ানের ১৫৭ বলের জুটিতে যোগ হয় ১১৯ রান।
তবে স্বস্তির খবর হলো, এই জুটি ভেঙে দিয়ে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। ৮৯.৪ ভারে তাইজুলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে রিজওয়ান ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ৭৯ বলে ৫৯ রান নিয়ে। দলের রান তখন ৬ উইকেটে ৩৪৯।
চা বিরতি চলাকালীন হঠাৎ বৃষ্টি নামলে প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে খেলা। এরপর খেলা মাঠে গড়াতেই সপ্তম উইকেট আসতে দেরি হয়নি। থিতু হয়ে যাওয়া সালমান আগাকে ফেরান নাহিদ রানা।
ইনিংসে এটাই ছিল তার প্রথম উইকেট। ৫৮ রানে আউট হন সালমান। ৪ রানের ভেতর থিতু হয়ে যাওয়া দুই ব্যাটার ফেরায় স্বস্তি ফিরে বাংলাদেশ শিবিরে। যা ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত লিড নেয় টাইগাররা।
নোমান আলী ও শাহীন শাহ আফ্রিদির উইকেট নিয়ে ৫ উইকেট পূরণ করেন মিরাজ। মাত্র ৩৭ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম উল হক বলেছিলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো যে, এটা দ্রুত বদলাতে পারে।’ যে রূপই যেন দেখা গেল আজ মিরপুরে।



