বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের চোট ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক। চোটের সঠিক কারণ সময়মতো শনাক্ত করতে না পারায় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবার কঠিন জবাবদিহির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিক্যাল বিভাগ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে কাফ মাসলে চোট পাওয়ার পর প্রথমে সেটিকে গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছিল। এরপরও তাকে টি-টোয়েন্টি ও জিম্বাবুয়ে সফরের দলে রাখা হয়। তবে একটিও ম্যাচ খেলতে পারেননি লিটন। বারবার স্ক্যান করিয়েও দেশে বড় কোনো সমস্যা ধরা না পড়লেও ব্যথা কমেনি তার।
শেষ পর্যন্ত উন্নত পরীক্ষার জন্য লিটনকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে তার পায়ে ফোলা ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এই পুরো প্রক্রিয়ায় জিম্বাবুয়ে ও সিঙ্গাপুরে যাতায়াত, চিকিৎসা এবং অন্য ব্যয় মিলিয়ে বিসিবির খরচ প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেডিক্যাল বিভাগের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও তাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সংবাদ সম্মেলনে জানান, মেডিক্যাল বিভাগের সবুজ সংকেত পেয়েই লিটনকে দলে রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, স্ক্যান রিপোর্টে বড় কোনো সমস্যা ধরা না পড়ায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে লিটনের ব্যথা না কমায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
এদিকে শুধু লিটনই নন, নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসানও বর্তমানে চোটে ভুগছেন। একাধিক খেলোয়াড়ের ইনজুরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিসিবির একজন পরিচালকের নেতৃত্বে পুরো মেডিক্যাল কার্যক্রম তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন বোর্ডের কাছে জমা দেয়া হবে।



