আইপিএলে রান বৃষ্টি নতুন কিছু নয়। তবে গতদিনে যা হয়েছে, তা ছাপিয়ে গেছে আগের সবকিছুকে। আইপিএল ইতিহাসে এমনদিন আগে আসেনি কখনো। দিনের ২ ম্যাচে ৭৭.২ ওভারে এসেছে ৯৮৬ রান!
শনিবার বিকেলে দিল্লিতে দিল্লি-পাঞ্জাব ম্যাচে আসে ৫২৯ রান, আর রাতে জয়পুরে রাজস্থান-হায়দরাবাদ ম্যাচে আসে ৪৫৭। আইপিএলের ইতিহাসে এক দিনে এত রান কখনোই ওঠেনি।
এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ৮৯৯ রান, ২০২৪ সালের ২৭ এপ্রিলের দুই ম্যাচে। শনিবারের দুই ম্যাচে ছক্কা হয়েছে ৫৯টি। এটাও আইপিএলের রেকর্ড সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ছিল দিনে ৫৩টি।
তবে এই রেকর্ড রানের দিনে আরো একটা রেকর্ড হয়ে গেছে। আইপিএলে তো বটেই, স্বীকৃত টি-টুয়েন্টির ইতিহাসেই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছে পাঞ্জাব কিংস।
এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২ উইকেটে ২৬৪ রান তুলে দিল্লি। যা দলটার ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। তবে এই রানও জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি, ৬ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই জিতে যায় পাঞ্জাব।
যেখানে বেশিভাগ রানই আসে লোকেশ রাহুলের ব্যাটে। ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ৬ চার আর ৯ ছক্কার এই টর্নেডো ইনিংসই আইপিএলে ভারতীয়দের মাঝে সর্বোচ্চ।
এদিন তিনে নামা নিতিশ রানাকে নিয়ে রাহুল পাঞ্জাবের বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দেন। ১৫.৫ ওভার জুটিতে ২২০ রান যোগ করেন তারা। যা আইপিএল ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
রাহুল সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন নিতিশ রানা। ৪৪ বলে ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ৯১ রান করে বার্টলেটের বলে আউট হন এই অলরাউন্ডার।
দিল্লির রান পাহাড় হেসেখেলেই পেরিয়ে যায় পাঞ্জাব। যেখানে পাওয়ার প্লেতে দিল্লির ছিল ৬৮ রান, সেখানে ৬ ওভার শেষেই ১১৬ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। ২৯২ স্ট্রাইকরেটে ২৬ বলে ৭৬ করেন প্রাভসিমরান সিং।
আরেক ওপেনার প্রিয়ানশ আরিয়ার ব্যাট থেকে আস ১৭ বলে ৪৩ রান। তাদের বিদায়ের পর পাঞ্জাবকে পথ দেখান শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৬ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থেকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।
এদিকে রাজস্থানের হয়ে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ঝড় তুলেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বলে ফিফটি করার পর ৩৬ বলে করেন আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। সেই সাথে গড়েন টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম হাজার (৪৭৩ বল) রানের রেকর্ড।
এত সব রেকর্ড গড়ার পরও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হেরেছেন সূর্যবংশীর রাজস্থান। তাদের ২২৯ রানের লক্ষ্য হায়দরাবাদ ছুঁয়েছে ৯ বল বাকি থাকতেই। দলকে জেতাতে ইশান কিষান ৩১ বলে ৭৪ ও অভিষেক শর্মা করেন ২৯ বলে ৫৭ রান।



