বয়কট করার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে। তবে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচটি তারা খেলবে না। রোববার রাতে এমন ঘোষণার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্রিকেটপাড়া।
পাকিস্তানের এমন ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে ভারত-পাকিস্তান সুপার ক্লাসিকো। ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটা মাঠে গড়ানো নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না গড়ালে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি। প্রায় ২০০ কোটি ভারতীয় রুপি লোকসান হতে পারে তাদের। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এমতাবস্থায় কী পদক্ষেপ নেবে আইসিসি?
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষিত এমন সিদ্ধান্ত আসার পর রোববার রাতে এক বিবৃতি দিয়েছে আইসিসি। সেখানে তারা জানিয়েছে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সব দল সমান সুযোগ ও নিয়ম মেনে খেলবে- এটাই স্বাভাবিক।
বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, তারা সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যেমন ভালো হবে না, তেমনি সারাবিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্যও হতাশার।
আইসিসি জানায়, ‘বিশ্বব্যাপী একটি ক্রীড়া আয়োজনের মূল ভিত্তি হলো- সব যোগ্য দল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। বাছাই করা ম্যাচে অংশগ্রহণ এই নীতি, প্রতিযোগিতার সততা ও ন্যায্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।’
সেই সাথে বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের পরিণতি কী হতে পারে সেই বিষয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে আইসিসি। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে, তা পিসিবির গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। কারণ বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার একটি অংশ এবং উপকারভোগী হিসেবে পাকিস্তানও এর সাথে যুক্ত।’
অর্থাৎ ভারত ম্যাচ বয়কটের কারণে পাকিস্তানের যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা আছ, তেমনি নেমে আসতে পারে শাস্তির খড়গ। এছাড়া ভারত ম্যাচের পয়েন্টও হাতছাড়া করবে পাকিস্তান দল।
অর্থাৎ ম্যাচের ২ পয়েন্ট ভারত পেয়ে যাবে। আইসিসির ১৬.১০.৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো দল ম্যাচ না খেললে তা তাদের নেট রানরেটে প্রভাব ফেলে। তবে ভারতের নেট রানরেটে কোনো প্রভাব পড়বে না।
তবে এজন্য ম্যাচের আগে নির্ধারিত সময়ে ভারত দলকে ভেন্যুতে উপস্থিত থাকতে হবে। সূচি মেনে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত কলম্বো স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকতে হবে ভারত দলকে।
শুধু তাই নয়, ম্যাচের আগের দিন নিয়ম মেনে সাংবাদিক সম্মেলনও করতে হবে। মাঠে গিয়ে ম্যাচ রেফারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত ভারতীয় দলকে অপেক্ষা করতে হবে।
তবে ভারত মাঠে না গেলে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে। তেমন হলে দু’দলের মধ্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি হবে। যদিও ভারত দল জানিয়ে দিয়েছে, তারা মাঠে যাবে।



