বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটা অধ্যায় ছিল ‘পাঁচ মোড়ল’। বলা যায় সবচেয়ে রঙিন সময়টাই এনে দিয়েছিলেন তারা। তাদের হাত ধরে দেখা দিয়েছে অনেক সাফল্য-অর্জন, লেখা হয়েছে গৌরবগাঁথা।
তবে বাতির নিচেও যেমন আছে অন্ধকার থাকে, তেমনি পাঁচ মোড়লের আধিপত্য নিয়েও কম-বেশি গুঞ্জন ছিল ক্রিকেট পাড়ায়। তবে কেউ কখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি এ প্রসঙ্গে। এবার মুখ খুললেন সৌম্য সরকার।
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের অর্জনের স্বীকৃতি দিলেও— তাদের কারণে অন্যরা আড়ালে পড়ে গেছেন বলে দাবি সৌম্যের।
পাঁচ মোড়লের পরবর্তী আর কোনো ‘সিনিয়র’ কোটা তৈরী হয়নি বাংলাদেশে বলে সম্প্রতি এক জাতীয় গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে সৌম্য আরো বলেন, ‘পরবর্তী পাঁচ মোড়ল হয়নি, এটাতে আমি খুশি। আমি চাইও না যে পরবর্তীতে আর কেউ মোড়ল হোক।’
এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এতে টিমের ভেতরে ভাগ হয়ে যায়। আপনি মনে করছেন, পাঁচজন প্রপার আছে, কিন্তু সেই পাঁচজন তো একা খেলছেন না। বাকি ছয়জন আছেন ১১ জনের দলে। কিন্তু তারা ঢাকা পড়ে যান। মানে, ওই পাঁচজনের বাইরে যদি কেউ ৩০ রানও করতেন, সেই ৩০ রানের কোনো মূল্য থাকত না। তাই আমি চাই না যে আর কেউ এ রকম হোক।’
এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত একটাই ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছি। আমার সাথে সেই সিরিজে মোসাদ্দেকও ভালো খেলেছিলেন। কিন্তু আমাদের কোনো নাম হয়নি। আমি বলছি না আমাদেরই নাম হতে হবে। পারফর্ম করা সব প্লেয়ারেরই কাজ। কিন্তু ওই সময় কিন্তু মিডিয়া কোনো ক্রেডিট আমাদের দু’জনকে দেয়নি। এ রকম ছোট ছোট অনেক কিছু থাকে। আমি এ জন্যই বলছি যে আপনি যখন কাউকে বড় করে দেখাবেন, তখন আরেকজনের পারফরম্যান্সটা ঢাকা পড়ে যায়।’
অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটে পাঁচ সিনিয়রের কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি সৌম্য। তিনি বলেন, ‘তারা তো আমাদের দেশের লিজেন্ড। তারা যে পারফর্ম করেছেন, এটা বাংলাদেশ কখনোই ভুলবে না।’



