জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা হয়েছে বিসিবি নির্বাচনের তদন্ত রিপোর্ট

গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) |সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিগত নির্বাচন ঘিরে ওঠা সব প্রশ্নের উত্তর মিলতে শুরু করেছে। অবসান হতে পারে বিতর্কের। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অবশেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা দেয়া হয়েছে।

রোববার দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে।

গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখা।

তদন্ত কমিটিকে শুরুতে ১৫ কার্যদিবসের মাঝে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জমা দিয়েছে।

তদন্ত চলাকালীন সময়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, যেখানে বর্তমান বোর্ড সভাপতির বিরুদ্ধেও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি পক্ষ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরবর্তীতে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জোরাল হয়।

তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের ব্যক্তিদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠকদের সাথে আলোচনা করে তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান এ কে এম আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, তারা নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে তদন্ত সম্পন্ন করেছেন এবং কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত না করে প্রাপ্ত তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে বক্তব্য দেয়ার জন্য ডাকা হলেও তিনি উপস্থিত হননি।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার আগের কয়েক দিনেই বিসিবির ভেতরে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়। একাধিক পরিচালক পদত্যাগ করেন এবং সর্বশেষ মোট সাতজন পরিচালকের পদত্যাগের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। এই পদত্যাগকে অনেকেই তদন্ত প্রতিবেদনের সম্ভাব্য প্রভাবের সাথে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন।

ফলে বর্তমান বোর্ডের ভবিষ্যৎ ও স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরে বিসিবির কাঠামোগত পরিবর্তন বা বোর্ড পুনর্গঠনের সম্ভাবনাও এখন আলোচনায় এসেছে।

এখন সবার নজর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, কারণ এই প্রতিবেদনের সুপারিশের ওপরই বিসিবির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো অনেকাংশে নির্ভর করছে।