অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের পরিচিত ছবির সাথে ডারউইনের দৃশ্যপট মেলে না। নেই চেনা সেই গ্রীষ্মকালীন উৎসব, নেই দর্শকদের সেই উন্মাদনা। বরং অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের ব্যস্ততায় আড়ালেই পড়ে গেছে টেস্ট ক্রিকেটের আসর।
তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে এমন ভিন্ন পরিবেশকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। তার চোখে, ডারউইনের এই আলাদা আবহ অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।
ফক্স স্পোর্টসকে তিনি বলেন, এখানকার টেস্টে ঐতিহ্যবাহী অস্ট্রেলিয়ান টেস্টের মতো প্রচার ও জাঁকজমক নেই। পরিবেশ অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও সতেজ। সেইসাথে পরিচিত পরিবেশ থেকে বেরিয়ে এমন ভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলা দলের মধ্যে নতুন ধরনের উত্তেজনাও তৈরি করতে পারে।
ডারউইনে টেস্ট আয়োজনের ইতিহাসও বেশ ছোট। এখন পর্যন্ত সেখানে হয়েছে মাত্র দুইটি টেস্ট। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ও ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের জন্য এবারই দ্বিতীয়বার ডারউইনে টেস্ট খেলার সুযোগ।
২০০৩ সালের জুলাইয়ে প্রথমবার ডারউইনে টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে অবশ্য স্বাগতিকদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ৪০৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।
ড্যারেন লেম্যান ও স্টিভ ওয়াহ সেঞ্চুরি করেন। গিলক্রিস্টও ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। সাত নম্বরে নেমে ৪৭ বলে করেন ৪৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৭৮ রান। ফলে ইনিংস ও ১৩২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
সেই ম্যাচের স্মৃতি এখনো গিলক্রিস্টের মনে আছে। বিশেষ করে ডারউইনের অস্বাভাবিক পরিবেশের সাথে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই সিরিজের অভিজ্ঞতাও তার কাছে আলাদা হয়ে আছে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট হয়েছিল কেয়ার্নসে। সেখানে বাংলাদেশ ইনিংস ও ৯৮ রানে হারে।
২৩ বছর পর আবারো বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইনে টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। এবার অবশ্য সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ কেয়ার্নসে নয়, হবে ম্যাকাইতে। এই সিরিজটি মূলত আগামী বছরের মার্চে হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে মার্চে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে বিশেষ টেস্ট আয়োজন করা হবে। সেই কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি সাত মাস এগিয়ে আনা হয়েছে।
সমস্যা হলো, আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ভেন্যুগুলো ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত থাকে না। সেসব অঞ্চলে তখন অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবলের মৌসুম চলছে। এর সাথে রয়েছে আবহাওয়ার বিষয়টিও। তাই নর্দান টেরিটরির উষ্ণ ডারউইনই হয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের ঠিকানা।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য অচেনা এই পরিবেশ বাংলাদেশের জন্য কতটা সুযোগ তৈরি করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আর গিলক্রিস্টের চোখে, পরিচিত গণ্ডির বাইরে এই অভিজ্ঞতাই অস্ট্রেলিয়া দলের জন্য হতে পারে সিরিজের বাড়তি রোমাঞ্চ।



