৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো টাইগাররা

সব হারিয়ে অবশেষে ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে গেলেও সিরিজের শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিল টাইগাররা। সেই সাথে এড়ালো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক
৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো টাইগাররা
৭ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো টাইগাররা |নয়া দিগন্ত

সব হারিয়ে অবশেষে ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে গেলেও সিরিজের শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিল টাইগাররা। সেই সাথে এড়ালো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা।

শনিবার (১১ জুলাই) হারারেতে ৭ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ের করা ১৯৯ রানের সংগ্রহ ১৪ ওভার হাতে রেখেই মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে গেছে টাইগাররা।

প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে ব্যাটিং ব্যর্থতা। ব্যাট হাতে তেমন কিছুই করতে পারেননি কেউ। কেউ থিতুই হতে পারেননি, কেউ থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।

যার ফলাফল স্বরূপ জিম্বাবুয়েকে ১৪১ ও ২৪৭ রানে আটকে দিয়েও প্রথম দুই ম্যাচেই হেরে যায় ২৫ ও ১৩ রানে। তবে আজ ঘুরে দাঁড়ায় টাইগার ব্যাটাররা। উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ১৬৭ বলে ১৫১ রানের জুটি।

তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার মিলেই জয়ের কাছে নিয়ে যান দলকে।

প্রথম উইকেটটা হারিয়েছে বাংলাদেশ ২৯ ওভারে এসে। জুটি ভেঙে সৌম্য সরকার ফেরেন ৮২ বলে ৬৯ রান করে।

তবে জয়ের জন্য যখন মাত্র ৩ রান দরকার, তখন ফেরেন তানজিদ তামিমও। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে আউট হন তিনি; ৯৪ বলে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় করেন ১০১ রান (অথবা ৯৪ বলে ৮৪ রান)*। এরপর নেমে তাওহীদ হৃদয় ফেরেন কোনো রান না করেই।

তবে নাজমুল হোসেন শান্ত ২৮ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তাতেই হোয়াইটওয়াশ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ২০০১ সালে শেষবার জিম্বাবুয়ের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল টাইগাররা।

এর আগে শনিবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ষষ্ঠ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা বেন কারান ফেরেন দুই অঙ্ক না ছুঁয়েই; ১৩ বলে ২ রান করে শরীফুলের শিকার হন তিনি।

পরের ওভারেই আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ১৯ বল খেলে ৬ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ১৭ রানে ২ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

১৩তম ওভারে পতন হয় তৃতীয় উইকেটের। উইকেটে ছটফট করতে থাকা ক্রেইগ আরভিন ২০ বল খেলে ৫ রান নিয়ে শরীফুলের দ্বিতীয় শিকার হন। দলের রান তখন মাত্র ২৭।

এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু বোলিংয়ে ফিরে তাসকিন ভেঙে দেন সেই জুটি। ২৭তম ওভারে ফেরান কাইয়াকে।

৫১ রানের জুটি ভেঙে কাইয়া ফেরেন ৬৭ বলে ২৫ করে। তবে মাধেভেরে ব্যাট করতে থাকেন স্বাচ্ছন্দ্যে, তুলে নেন ফিফটি। ৪০.২ ওভারে ১৫১ রানে এসে তাঁর উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

৭৪ বলে ৭৫ রান করা মাধেভেরেকে ফেরান তানভীর ইসলাম। অবশ্য এর আগে তিনি সিকান্দার রাজার (২৫ বলে ১১) উইকেটও নেন। ক্লিভ মাদান্দেকে (১) ফেরান শরীফুল, যা ছিল তাঁর তৃতীয় শিকার।

এদিকে মাধেভেরে ফেরার আগেই থিতু হয়ে যান ব্রাড ইভান্স। আগের ম্যাচে দারুণ ব্যাট করা এই অলরাউন্ডার আজ তুলে নেন ফিফটি। তাঁর ৪৩ বলে ৫০ রানে ভর করেই ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে পৌঁছায় জিম্বাবুয়ে।

শরীফুল ৪৪ রানে ৪টি, তাসকিন ৩২ রানে ২টি ও তানভীর ৩৭ রানে নেন ২টি উইকেট। ১টি উইকেট নেন সাইফউদ্দিন।