পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের টাকা নিয়ে ছলচাতুরি, ক্ষুব্ধ তামিম ইকবাল

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মজুরি নিয়ে দুর্নীতি ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তামিম ইকবাল কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং সরাসরি ব্যাংকে বেতন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
তামিম ইকবাল
তামিম ইকবাল |সংগৃহীত

দুর্নীতি যেন দেশের ক্রিকেটের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছেয়ে গেছে। বিষয়টা এখন এতদূর গড়িয়েছে যে ছাড় পাচ্ছেন না টয়লেট ক্লিনাররাও। তাদের আয়েও হাত দিচ্ছে অসাধু চক্র, করছে অর্থ আত্মসাৎ।

তামিম ইকবাল বিসিবির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ক্লিনিং সার্ভিস ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনেছেন তিনি।

সোমবার গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তামিম জানান, বিসিবির স্টেডিয়াম পরিদর্শনের সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে অসঙ্গতি দেখতে পান।

তার ভাষায়, ক্লিনিং সার্ভিসের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নকর্মীদের জনপ্রতি ৬৫০ টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা ৩০০ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তামিম ইকবাল বলেন, আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম যে ৬৫০ টাকা দিলে তারা ৩০০ টাকা কেন পাচ্ছে, তখন বিষয়টি আমাকে অবাক করেছে। যাদের আয় অল্প, তাদের থেকেও এভাবে টাকা নেয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

তামিম বলেন, ‘আমি নিজেই অবাক হয়েছি। গ্যালারিতে একজন বিদেশী দর্শক আমাকে বললেন, যদি ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়। ২০০৭ সালে স্টেডিয়াম হওয়ার পর থেকে বাথরুমে কোনো সংস্কার হয়নি- এটা ঠিক না।’

এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাই।’- তাদের এই কথা আমাকে নাড়া দেয়। পরে জানলাম ৬৫০ টাকা দেয়া হয়, কিন্তু তারা ৩০০ টাকা পাচ্ছে কেন? জেনে যা শুনলাম, তা খুবই চমকপ্রদ। একটা কোম্পানি টেন্ডার পায়, কিন্তু কাজ করানো হয় বিসিবির লোকজন দিয়েই। কোম্পানি টাকা নিয়ে আবার অন্য একজনের মাধ্যমে কর্মীদের দেয়, আর মাঝখানে টাকা রেখে দেয়।

তামিম আরো বলেন, ‘লাভ করবেন, খরচ থাকবে, ঠিক আছে। কিন্তু এই মহিলারা অন্তত ৫০০ টাকা পেতে পারে। মাঝখানে কোনো কাজ না করে ২০০ টাকা নেয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন।’

এরপর এই অসাধু চক্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তামিম। বলেন, ‘আজ থেকে আপনারা নিজেদের লোক দেবেন। প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে, সরাসরি সেখানে টাকা যাবে। প্রমাণসহ ফিন্যান্সে জমা দিলে তবেই বিল ছাড়ব। না হলে কন্ট্রাক্ট বাতিল করে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।’

ওভারটাইম নিয়েও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন তামিম, ‘কেউ ২৫-৩০ ঘণ্টা ওভারটাইম পাচ্ছে, আবার কেউ ৯০ ঘণ্টা। বুঝলাম এখানে সমস্যা আছে। যাদের সাথে সমঝোতা হয়েছে, তাদের ওভারটাইম বেশি দেখানো হচ্ছে, পরে সেই টাকা থেকে অংশ নেয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে আমি কোনো ছাড় দেবো না, এক শতাংশও না। আপনারা সাংবাদিকরাও এগুলো তুলে ধরবেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে দুর্নীতি করতে না পারে। আমি নিশ্চিত করতে চাই- কোনো গরিব মানুষের ক্ষতি যেন না হয়।’