বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে এবার ভাবতে শুরু করেছে সরকার। গত ১৬ বছরের আর্থিক দুর্নীতি, নিয়োগ জালিয়াতিসহ নানা ঘটনায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
অবৈধভাবে যারা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন তদন্ত করে সেগুলো সামনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেবে সরকার। রোববার সংসদ অধিবেশনে এমনটি জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে যারা দলীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডে অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, সে সব আমরা দ্রুতই তদন্ত কমিটি করে কারা জড়িত ছিল, ইনশাআল্লাহ জাতির সামনে নিয়ে আসব।
একইসাথে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জোরাল সহযোগিতা চেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রোববার জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মোশাররফ হোসেন তার প্রশ্নে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিসিবির দলীয়করণ ও নির্বাচনি অনিয়মের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানতে চান, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০০৮ সাল থেকে অদ্যাবধি মেধাহীন চিহ্নিত ক্যাডারদের দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।’
একইসাথে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তথাকথিত ভোট ডাকাতির নির্বাচনে ক্রিকেট বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটা অংশ বোর্ডের সম্পত্তি এবং স্থাপনা ব্যবহার করে যে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে কি না?
জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সংসদকে আশ্বস্ত করেন, ক্রীড়াঙ্গনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়, ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ বাংলাদেশের সকল স্পোটর্সকে দলীয়করণ এবং রাজনীতিকরণের মাধ্যমে স্থবির করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে দলীয়করণ এবং রাজনীতিকরণমুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে চলেছি। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে ২০০৮ সাল থেকে যারা দলীয় সুযোগ সুবিধার মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি করে এর ভেতরে কারা জড়িত, তা জাতির সামনে নিয়ে আসব।’
বিসিবির অর্থ ও জনবল ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে অর্থ কিংবা জনবল বিগত সময়ে ভোটের অধিকার হরনের জন্য একটি গ্রুপকে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্মগুলো করেছে। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর অপকর্মের সাথে বিসিবির যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত তাদের বিপক্ষে তদন্ত করব। এদের বিপক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেয়ার ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালকের কাছে আহ্বান করব, এ বিষয়ে তদন্ত থাকলে, আমাদের যেন অবগত করেন। যাতে জাতির সামনে উত্থাপিত হয়।’



