আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে আইসিসিকে কার্যত ‘লাল কার্ড’ দেখালেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার রবিচন্দ্র অশ্বিন। তার মতে, এত ঘন ঘন আইসিসি টুর্নামেন্ট হওয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। তাই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেউ দেখবেন না বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অশ্বিন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, অশ্বিন সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’-কে আইসিসির পরিকল্পনাকে এক হাত নিয়ে বলেন, এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কেউ দেখবে না। প্রতিযোগিতার প্রথম দিকের খেলাগুলি দেখুন। ভারত খেলবে আমেরিকা, নামিবিয়ার বিপক্ষে। এই সব ম্যাচের আদৌ কোনো আকর্ষণ থাকে না। অথচ ভারত যদি প্রথম দিকে শ্রীলঙ্কা কিংবা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলত, তাহলে দর্শকদের মধ্যে আকর্ষণ থাকত।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। খেলবে ২০টি দল। সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে তার মন্তব্য, এতে প্রতিযোগিতার মান কমে যাবে। দলগুলোর মধ্যে এর ফলে অনেক পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এভাবে প্রতিযোগিতার মান ধরে রাখা যায় না। তাছাড়াও আগে তো চার বছর অন্তর অন্তর বিশ্বকাপ হত। লোকজন অপেক্ষা করে থাকতেন এর জন্য। প্রতিযোগিতার আকর্ষণও থাকত। কিন্তু এখন তো ঘন ঘন আইসিসির প্রতিযোগিতা হচ্ছে। এতে দর্শকদের মধ্যে আকর্ষণ হারাচ্ছে।
এরপর কিছুটা নস্টালজিক হয়ে তিনি বলেন, আমার স্কুলজীবনে বিশ্বকাপ এত ঘন ঘন হত না। ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩। প্রতি চার বছর অন্তর একবার বিশ্বকাপ আসত। আমরা বিশ্বকাপের কার্ড সংগ্রহ করতাম। দেয়ালে সূচি টাঙিয়ে রাখতাম। দারুণ উত্তেজনা থাকত। কিন্তু এখন এত প্রতিযোগিতা হচ্ছে যে, দর্শকরাই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এত বেশি ম্যাচ হলে আগ্রহ থাকে না; বরং কমে।
দলবৃদ্ধিতে ‘বিরক্ত’ হলেও ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে নন অশ্বিন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু তার জন্য বিশ্বকাপের মান কেন বিসর্জন দিতে হবে? যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে, সেই দলগুলোর মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে তো প্রতিযোগিতার আকর্ষণ কমে যেতে বাধ্য।
তা ছাড়াও ২০২৭ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার মন্তব্য, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের পর ওয়ানডের ভবিষ্যৎ কী? বিজয় হাজারে ট্রফিতে দেখছি, অনেকেরই মানসিকতা ৫০ ওভারের ম্যাচের মতো নয়। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা এবার বিজয় হাজারেতে খেলছে। তাই অনেকেরই উৎসাহ জন্মেছে এই টুর্নামেন্ট নিয়ে। কিছু খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেন। সেটাই এই ঘরোয়া টুর্নামেন্টে প্রমাণিত। তারা ওয়ানডে থেকে অবসর নিলে কী হবে জানি না।



