আইপিএলের মাঝপথেই দয়িত্ব হারানোর শঙ্কায় ৪ অধিনায়ক

কেকেআর শেষ দু’টি ম্যাচ জিতে কিছুটা অক্সিজেন পেলেও রাহানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রতি ম্যাচেই। বোলিং পরিবর্তন, বোলারদের ব্যবহার করা, ফিল্ডিং সাজানো— কিছুই ঠিক মতো করতে পারছেন না রাহানে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
অধিনায়কত্ব হারানোর শঙ্কায় অজিঙ্কা রাহানেও
অধিনায়কত্ব হারানোর শঙ্কায় অজিঙ্কা রাহানেও |সংগৃহীত

আইপিএলের মাঝপথে দায়িত্ব কেড়ে নেয়া হতে পারে চারজন অধিনায়কের। তাদের পারফরম্যান্স, দলের পারফরম্যান্স এবং দল পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নেতৃত্বে পরিবর্তন করলে সাফল্য আসতে পারে বলে মনে করছেন অন্তত চারটি দলের কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

বর্তমান পয়েন্ট টেবিল অনুযায়ী- আইপিএলের পয়েন্ট তালিকায় প্রথম তিনটি দল পাঞ্জাব কিংস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং রাজস্থান রয়্যালসের প্লেঅফ খেলা প্রায় নিশ্চিত। প্রতিযোগিতার মাঝপথে এসে বাকি সাতটি দল অনিশ্চিত। একটি বা দু’টি জয় কোনো দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। আবার একইভাবে একাধিক দলের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। চতুর্থ দল হিসেবে আইপিএলের প্লেঅফে জায়গা করে নিতে মরিয়া সাতটি দলই। আবার প্রথম তিনে থাকা তিন দলের দু’-একটি ম্যাচে খারাপ ফল ছিটকে দিতে পারে প্লেঅফ থেকে।

এই পরিস্থিতিতে একাধিক দলের কর্তৃপক্ষ অধিনায়ক পরিবর্তন করে ঝুঁকি নিয়ে দেখতে চাইছেন। কারো লক্ষ্য বিদায় নিশ্চিত হওয়ার আগে শেষ চেষ্টা করা। কারো লক্ষ্য প্রথম চার দলের মধ্যে জায়গা সুরক্ষিত রাখা। অন্তত চারজন অধিনায়ককে নিয়ে খুশি নয় তাদের দল।

বাদ পড়ার শঙ্কায় প্রথমে আছেন অক্ষর প্যাটেল। ভারতীয় এই অলরাউন্ডারের নেতৃত্ব নিয়ে খুশি নন দিল্লি ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ। ক্রিকেটার হিসেবেও তার পারফরম্যান্স উল্লেখ করার মতো নয়। এখন পর্যন্ত আইপিএলে অক্ষর করেছেন ৩১ রান। উইকেট নিয়েছেন ৭টি।

পাঞ্জাব এবং বেঙ্গালুরুর কাছে শেষ দু’টি ম্যাচ হারায় শেষ চারের অঙ্ক কঠিন হয়েছে দিল্লির। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দিল্লি ৭৫ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় অসন্তুষ্ট কর্তৃপক্ষ। তার দল পরিচালনা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি কর্তৃপক্ষ আর দু’টি ম্যাচ অপেক্ষা করতে পারে। অক্ষরের পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। নেতৃত্ব তুলে দেয়া হতে পারে লোকেশ রাহুলের হাতে।

অধিনায়কত্ব হারানোর শঙ্কায় দ্বিতীয়তে আছেন রিয়ান পরাগ। পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজস্থান। মঙ্গলবার পাঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে শ্রেয়াস আইয়ারদের অপরাজিত তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু রিয়ানের পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্ব খুশি করতে পারছে না রাজস্থান কর্তৃপক্ষকে।

কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করছেন, অধিনায়ক হওয়ার সুবাদে প্রথম একাদশে জায়গা পাচ্ছেন রিয়ান। যা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হচ্ছে। প্রায় সব ম্যাচেই দলকে সমস্যায় ফেলে দিচ্ছেন অধিনায়ক। সতীর্থদের সাথে অধিনায়কের বোঝাপড়া নিয়েও সন্তুষ্ট নন তারা।

এখন পর্যন্ত এবারের আইপিএলে রিয়ান ১২.৫৭ গড়ে করেছেন ৮৮ রান। দলে রয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল, ধ্রুব জুরেল, রবীন্দ্র জাদেজার মতো ক্রিকেটাররা। রিয়ানকে সরিয়ে তাদের মধ্যে কাউকে অধিনায়ক করার কথা ভাবছে রাজস্থান কর্তৃপক্ষ।

এ তালিকায় তৃতীয়তে আছেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। চেন্নাই সুপার কিংস অধিনায়ক ঋতুরাজের অবস্থা অনেকটা রিয়ানের মতোই। দলের ধারাবাহিকতা নেই। তার ব্যাটে রান নেই। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। তার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে দলে সঞ্জু স্যামসনের উপস্থিতি। এবারই তাকে ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দলে নিয়েছেন চেন্নাই কর্তৃপক্ষ। ভালো ফর্মে রয়েছেন। দু’টি শতরান করেছেন। নেতৃত্ব দেয়ার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঋতুরাজের বদলে সঞ্জুকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দিতে পারে চেন্নাই কর্তৃপক্ষ।

এ তালিকার সর্বশেষে আছেন অজিঙ্কা রাহানে। আইপিএলের অধিনায়কদের মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে চাপে সম্ভবত কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক। কেকেআর শেষ দু’টি ম্যাচ জিতে কিছুটা অক্সিজেন পেলেও রাহানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রতি ম্যাচেই। বোলিং পরিবর্তন, বোলারদের ব্যবহার করা, ফিল্ডিং সাজানো— কিছুই ঠিক মতো করতে পারছেন না রাহানে।

এখনো ঠিকঠাক প্রথম একাদশ বেছে নিতে পারেননি। দলে একাধিক তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার থাকলেও তাদের খেলানোর কথা ভাবছেন না। নিজে রান করতে পারছেন না। রমনদীপ সিংহ, বৈভব অরোরারা ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যর্থ হলেও তাদের পরিবর্তন করছেন না! শেষ তিনটি ইনিংসের দু’টিতে রাহানে আউট হয়েছেন শূন্য রানে। দলকে লড়াইয়ে রাখতে অধিনায়ক পরিবর্তনের কথা ভাবতে শুরু করেছে কেকেআর কর্তৃপক্ষও। সহ-অধিনায়ক রিঙ্কু সিংকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে প্রতিযোগিতার মাঝপথে।