ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে, মাঠে ফিরেছে ক্রিকেট। মঙ্গলবার মাঠে নেমেছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ১২ দলের সবগুলো। যেখানে আধিপত্য ছিল ব্যাটারদের, এসেছে ছয়টি সেঞ্চুরি।
মঙ্গলবার অষ্টম রাউন্ডে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৭৩ রানের বড় জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড। তাদের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। খেলেন ৯৫ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস।
সুবাদে বিকেএসপিতে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩১৫ রান করে আবাহনী। অঙ্কন ছাড়া সাব্বির হোসেন ৪৫, মোসাদ্দেক হোসেন ৪৩ ও মেহরাব হাসান করেন ৪১ রান।
জবাব দিতে নেমে গুলশানের হয়ে ওপেনিং জুটিতে ৪৫ রান তোলেন রহমতউল্লাহ আলী ও আলিফ ইমন। ১২ বলে ১৪ রান করেন ইমন, ২৫ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন রহমতউল্লাহ।
এরপরই আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন গুলশানের ব্যাটাররা। শেষদিকে ২১ বলে ২০ রান করেন আবদুর রহিম। ২৫ বলে ১৫ রান করেছিলেন আবির। তাতেই শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানে থেমেছে গুলশানের ইনিংস।
১৭৩ রানের বড় জয় তুলে নেয় আবাহনী। তাদের পক্ষে ৩ উইকেট নেন নাইমুর রহমান নয়ন। ২টি করে উইকেট নেন রাকিবুল হাসান ও মেহরাব।
অন্যদিকে তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও এনামুল হক-আফিফ হোসেনের জোড়া ফিফটিতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ১০৭ রানে হারিয়েছে মোহামেডান। ১০৬ বলে ১০১ রান করেন তাওহিদ।
বিজয় ৬৩ বলে ৭১ ও আফিফ ৭০ বলে করেন ৭০ রান। তাতেই আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩৩৯ রান করে মোহামেডান। জবাবে রূপগঞ্জ সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩২ রান সংগ্রহ করে।
দল ভালো না করলেও দারুণ কীর্তি গড়েছেন হাবিবুর রহমান সোহান। মাত্র ১৫ বলে ফিফটি করেছেন তিনি। স্পর্শ করেছেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড।
এই রেকর্ড এতদিন এককভাবে ছিল পারভেজ হোসেন ইমনের। এবার তার সাথে যোগ দিলেন সোহান। সোহানের ইনিংস অবশ্য আর বড় হয়নি, ২৭ বলে ৫৯ রান করে আউট হন তিনি।
এছাড়া শেষ দিকে শেখ মেহেদী ৩৭ ও নাসুম আহমেদ ৪৫ রান করেন। যা রূপগঞ্জকে ২০০ পেরোতে সহায়তা করে। লিটন দাস করেন ১৫ বলে ১৮ রান।বল হাতে নাহিদ রানা ৪ ও তাইবুর রহমান ৩ উইকেট নেন।
দিনের আরেক ম্যাচে সিটি ক্লাবের বিপক্ষ অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে ১৪৭ রান করেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। তাতেই সিটি ক্লাবের ৩২৬ রানের পুঁজি পেরিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংক।
সিটি ক্লাবকে এতো বড় পুঁজি এনে দিতে সহায়তা করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। ১৪৫ বলে ১৫১ রান করেন তিনি। এছাড়া মিজানুর রহমান করেন ৫৮ রান।
এদিকে, দিনের বৃষ্টি বিঘ্নিত আরেক ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ তামিম ও শাহাদাত হোসেন। তামিম ৯৩ বলে ১১৯ ও ১১১ বলে ১০৫ রান করেন শাহাদাত। দু’জনে গড়েন ২১০ রানের জুটি।
এছাড়া শামিম পাটোয়ারী ৩১ বলে ৫১ ও আকবর আলী ৩৫ রান করেন। তাতে ৫ উইকেটে ৩৬৯ রান তুলে প্রাইম ব্যাংক। যা তাড়া করতে গিয়ে ২১ ওভারে ৮৬ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
এরপর বৃষ্টি নামলে বৃষ্টি আইনে ১৫৫ রানের জয় পায় প্রাইম ব্যাংক।
সব মিলিয়ে ৮ ম্যাচে ৭ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে মোহামেডান। আর সমান সংখ্যক ম্যাচে সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আবাহনী ও তিনে প্রাইম ব্যাংক। ৫ জয় নিয়ে চারে লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ।



