রেকর্ড রান নিয়েও স্বপ্নভঙ্গ পাকিস্তানের, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড

সমীকরণ জেনেই মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান। ব্যাট হাতে দেখা গেল সেই সমীকরণ মেলানোর আপ্রাণ চেষ্টা। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ৫ রানে জিতলেও সমীকরণ মেলাতে পারেনি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রেকর্ড রান নিয়েও স্বপ্নভঙ্গ পাকিস্তানের
রেকর্ড রান নিয়েও স্বপ্নভঙ্গ পাকিস্তানের |সংগৃহীত

রেকর্ড রানের পুঁজি নিয়েও পারলো না পাকিস্তান। সমীকরণের মারপ্যাঁচে বিশ্বকাপ শেষে সালমান আগাদের। ম্যান ইন গ্রিনদের হতাশ করে সেমিফাইনালের টিকিট পেল নিউজিল্যান্ড।

সমীকরণ জেনেই মাঠে নেমেছিল পাকিস্তান। ব্যাট হাতে দেখা গেল সেই সমীকরণ মেলানোর আপ্রাণ চেষ্টা। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ৫ রানে জিতলেও সমীকরণ মেলাতে পারেনি।

পাল্লাকেলেতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২১২ রান করে পাকিস্তান। যা বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ফলে সেমিফাইনালে যেতে হলে লঙ্কানদের ১৪৭ বা তার চেয়ে কম রানের মাঝে আটকাতে হতো। অর্থাৎ পাকিস্তানকে জিততে হতো ৬৫ রানে।

কিন্তু তা পারেনি ম্যান ইন গ্রিনরা। ২১২ রানের জবাবে ৬ উইকেটে ২০৭ রান করে ফেলে শ্রীলঙ্কা। তাতে জয় পেলেও ভেঙে যায় সেমিফাইনালে স্বপ্ন।

অবশ্য দুই শতাধিক রান তুলে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে দেন ব্যাটাররা। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামানের উদ্বোধনী জুটিই পাকিস্তানকে দুই শ’ পার করিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।

১৫.৫ ওভারে জুটি ভাঙার আগে ১৭৬ রান যোগ করেন দুজনে। যা পাকিস্তান তো বটেই, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসেই যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি।

ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। তবে ফারহান ঠিকই তিন অঙ্কে পৌঁছে যান। ৫৯ বলে চলতি বিশ্বকাপে তুলে নেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাতেই গড়েন বিশ্ব রেকর্ড।

এক আসরে দুই সেঞ্চুরি হাঁকানো একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। এক আসরে সর্বোচ্চ ১৮ ছক্কা হাঁকানোর কীর্তিও গড়েছেন তিনি। এমনকি এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩৮৩ রানের মালিকও এখন ফারহান।

শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ফারহান ৯ চার ৫ ছক্কায় ৬০ বলে করেন ১০০ রান। ফারহান ও ফখর ছাড়া আর কেউ রান পাননি। শেষ ৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে আসে মাত্র ৪৯ রান।

শেষ দিকে তেমন রান তুলতে না পারাই কাল হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানের জন্য। এতো বড় পুঁজি পেলেও ১৫তম ওভারেই সেমিফাইনালের দৌঁড় থেকে ছিটকে যায় তারা।

পবন রত্নায়েকে ও দাসুন শানাকা মিলে গড়বড় করে দেন পাকিস্তানের সব হিসাব-নিকাশ। রত্নায়েকে ৩৭ বলে ৫৮ রান করে আউট হলেও শানাকা অপরাজিত থাকেন ৩১ বলে ৭৬ রানে।

দাসুন শানাকার ৮ ছক্কার ইনিংসে একটা সময় জয়ের সুবাসও পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। শেষ ওভারে যেখানে প্রয়োজন ছিল ২৮ রানের, সেখানে ৪ বলেই ২২ রান তুলে নেন শানাকা।

তবে শেষ ২ বলে ৬ রানের প্রয়োজন মেটাতে পারেননি। তাতে লড়াই করেও হেরে যায় শ্রীলঙ্কা। বল হাতে পাকিস্তানের আবরার আহমেদ কেবল ভাল করেন, ২৩ রানে নেন ৩ উইকেট।