২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই সফরের আগে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে নাহিদ রানার চোট। এই বোলারকে না পাওয়ায় আক্ষেপ থাকলেও এখন আর সেটি নিয়ে পড়ে থাকতে চান না এইচপির প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তার বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে বল করতে পারলে দলের অন্য বোলাররাও ভালো করতে পারবেন।
রোববার মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘সত্যি বলতে নাহিদ রানা থাকলে আমিও খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম যে, কবে দেখব নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের বাউন্সার মারছে। যেহেতু হয়নি, এখন হাহুতাশ করে লাভ নেই। আমি মনে করি, অন্য বোলার যারা আছে, তারা যদি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বল করতে পারে, তারাও অনেক ভালো করবে।’
নাহিদকে না পাওয়ার হতাশার মাঝেও লিটন দাসের দলে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি। চোট কাটিয়ে ওপেনার-উইকেটকিপার দলে ফিরলেও তার খেলা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে ফিট থাকলে অভিজ্ঞতার কারণে তাকে খেলানোর পক্ষেই মত সালাউদ্দিনের।
তিনি বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচে খুব বেশি হাই ইনটেনসিটিতে খেলতে হয় না। সে যদি ব্যাটিং করতে পারে এবং রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে মোটামুটি ভালো থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে খেলানো যুক্তিযুক্ত হবে।’
দীর্ঘদিন ম্যাচের বাইরে থাকলেও লিটনের অভিজ্ঞতাকে বড় করে দেখছেন এই কোচ। ‘অভিজ্ঞতা আপনি কখনো ভুলবেন না। এটা সবসময় আপনার সাথে থাকে। ও যদি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারে, তাহলে আরো ভালো হবে। না হলে সরাসরি টেস্ট খেলতে গেলে একটু অসুবিধা হতে পারে। তাই আগে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’
লিটন শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে জাকের আলিকে নিয়েও আশাবাদী সালাউদ্দিন। তার ভাষায়, ‘জাকের অনেক লড়াকু ক্রিকেটার। চাপের মধ্যে খেলতে জানে। চার-পাঁচ উইকেট পড়ে গেলে বোলারদের নিয়ে কিভাবে খেলতে হয়, সে সেটা ভালো বোঝে। আমাদের ওই অবস্থানে এমন একজন ব্যাটসম্যানের দরকার আছে।’
আসন্ন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সালাউদ্দিন। তার বিশ্বাস, বিদেশের চারটি টেস্টে ভালো ফলের পাশাপাশি দেশের মাটিতে বাকি চারটি টেস্ট জিততে পারলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষ তিনে থাকার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের।



