ক্রিকেটারদের জন্য ‘টাইগার্স ডেন’ লাউঞ্জ গড়ছে বিসিবি

বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের সাথে বিসিবির সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তামিম।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ক্রিকেটারদের জন্য ‘টাইগার্স ডেন’
ক্রিকেটারদের জন্য ‘টাইগার্স ডেন’ |নয়া দিগন্ত অনলাইন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের জন্য মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ‘টাইগার্স ডেন’ নামে আধুনিক ও বিলাসবহুল একটি ক্রিকেটার্স লাউঞ্জ তৈরি করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ইতোমধ্যে লাউঞ্জটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নিজেই সাংবাদিকদের নতুন এই লাউঞ্জ ঘুরে দেখান।

বাংলাদেশের হয়ে অন্তত একবার জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করা পুরুষ ও নারী—মোট প্রায় ৩৫০ জন ক্রিকেটারের জন্য নির্মিত হয়েছে ‘টাইগার্স ডেন’। নতুন এই লাউঞ্জে একসাথে প্রায় ৩৫০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

বিসিবির নতুন কার্যালয়ে আধুনিক স্থাপত্য ও নকশায় নির্মিত লাউঞ্জটি সাধারণ লাউঞ্জের তুলনায় আরো উন্নত ও বিলাসবহুলভাবে সাজানো হয়েছে। শুধু লাউঞ্জই নয়, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য শেরে বাংলা স্টেডিয়ামেও রাখা হচ্ছে বিশেষ সুবিধা।

ভিআইপি গ্যালারির একটি অংশ নির্দিষ্ট সময়ে শুধু জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া স্টেডিয়ামের ৪ নম্বর দক্ষিণ গেট দিয়ে তাদের জন্য আলাদা প্রবেশের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

তামিম ইকবাল এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছিলাম, ক্রিকেটারদের জন্য ‘টাইগার্স ডেন’ নামে একটি লাউঞ্জ তৈরি করছি। বাংলাদেশের হয়ে অন্তত একদিনও যারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তাদের জন্য এখানে বসার জায়গা থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘খেলার দিনে তারা এখান থেকে ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন। আবার অন্য দিন অফিস সময়েও এসে সময় কাটাতে পারবেন। এই জায়গাটি শুধু তাদের জন্য।’

বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের সাথে বিসিবির সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তামিম। তার ভাষায়, আমাদের বর্তমান ও সাবেক সব ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিজেদের মনে করতে হবে।

বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘সেই অনুভূতি তৈরি করতে বিসিবির পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন, সেগুলো ধীরে ধীরে নেয়া হবে। আমার মনে হয়েছে, জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য এমন একটি উদ্যোগ অনেক আগেই নেয়া উচিত ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘অধিনায়কদের জন্য বহু বছর ধরেই ‘ক্যাপ্টেনস বক্স’ রয়েছে, কিন্তু অন্য ক্রিকেটারদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এটি আমার পক্ষ থেকে একটি ছোট্ট উদ্যোগ।’

তবে এখনই লাউঞ্জটির উদ্বোধন করা হচ্ছে না। কারণ এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তামিম জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ঐতিহাসিক নানা অর্জনের স্মারকও এখানে সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘লাউঞ্জটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আমরা চাই এখানে ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়, নারী দলের এশিয়া কাপ শিরোপা, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়সহ ক্রিকেট ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিগুলো তুলে ধরা হোক। এসব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘টাইগার্স ডেন’-এর উদ্বোধন করা হবে।’