ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া সব ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক এবং এসএ গেমসে টানা দুইবারের স্বর্ণজয়ী তারকা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং অ্যাজেন্সি (ওয়াডা) এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) কিংবা এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের (ওসিএ) আওতায় প্রতিযোগিতাগুলোতে ক্রীড়াবিদদের ডোপ টেস্ট করা হয়। গত বছর নভেম্বরে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস শুরুর আগে মাবিয়ার নমুনা ২৯ অক্টোবর ঢাকায় সংগ্রহ করা হয়। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেই নমুনায় ডোপ টেস্ট পজিটিভ হওয়ায় তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং অ্যাজেন্সি (ওয়াডা)। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন মাবিয়াকে সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে এই শাস্তি কার্যকর হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে আপিল করার কথা জানিয়েছেন মাবিয়া। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার অলিম্পিক থেকে আমি চিঠি পেয়েছি। ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে- এমনটা চিঠিতে লেখা আছে। আমি আপিল করব।’
ইসলামিক সলিডারিটির গেমসের আগে মাবিয়ার যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই নমুনায় নিষিদ্ধ ‘ডাইইউরেটিক্স’ ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এটি মূলত এমন এক ধরনের ওষুধ, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দেয়। এটি দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক হলেও খেলাধুলায় এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মাবিয়ার দাবি, তিনি গোপনে কিছু করেননি। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই তিনি সব ওষুধ সেবন করেছেন। এ সংক্রান্ত সব ধরনের প্রেসক্রিপশনও তার কাছে আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী মাবিয়া বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের একটি উজ্জ্বল নাম। নিষেধাজ্ঞার কারণে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত হলেও নিজেকে আবারো ভারোত্তোলনের মঞ্চে ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ২৬ বছর বয়সী মাবিয়া।



