আরচ্যারিতে প্রথম ফিলিস্তিনি পদক জয়ী হতে চান রাশা

এশিয়ান কাপ আরচ্যারিতে অংশ নেয়া ফিলিস্তিনি আরচার রাশা ইয়াহিয়া আহমেদ চান আরচ্যারিতে ফিলিস্তিনের প্রথম পদক জয়ী হতে, যদিও এখনো তিনি শিক্ষানবিশ পর্যায়ে।

রফিকুল হায়দার ফরহাদ
রাশা ইয়াহিয়া আহমেদ
রাশা ইয়াহিয়া আহমেদ |সংগৃহীত

ঢাকায় চলমান এশিয়ান কাপ আরচ্যারি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়া ৩০ দলে আছে ফিলিস্তিন। একজন নারী আরচার এবং তিন পুরুষ আরচার নিয়ে তাদের আসা। সাথে দেশটির আরচ্যারি ও শ্যুটিং ফেডারেশনের সভাপতি। বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশন খরচ দিয়েই তাদের এনেছে। তা না হলে আসাই হতো না ইসরাইলি আগ্রাসনে বিপর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই স্বাধীন দেশটির। এ জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দেন ফিলিস্তিন আরচ্যারীর সভাপতি মান বারাকাত।

চার আরচ্যারের মধ্যে রাশা ইয়াহিয়া আহমেদ থাকেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এই নারী আরচার হেরে বিদায় নিয়েছেন রিকার্ভ এককে। বিভিন্ন দেশ ঘুরে আমিরাতে থিতু হয়েছেন রাশার বাবা। সেখানেই আরচ্যারিতে হাতে খড়ি। রাশাদের পৈত্রিক নিবাস ছিল গাজা সিটিতে। কিন্তু বহু আগেই তার বাবা যুদ্ধের কারণে গাজা ছেড়েছেন। তবে রাশা বলতে পারলেন না সঠিক কত বছর আগে তার বাবা ফিলিস্তিন ছেড়েছেন। রাশার জন্ম আমিরাতে।

আরচ্যারিতে এখনো শিক্ষানবিশ ফিলিস্তিনিরা। দলও গঠন হয়েছে বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের নিয়ে। রাশা এসেছেন আমিরাত থেকে। পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে এসেছেন ওসাইদ বাদওয়ান। আওয়াদ সাজিদও থাকেন আমিরাতে। তার বাবা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের হাইফা (এই হাইফা এখন ইসরাইলের বন্দর নগরী) ছেড়ে লেবাননে আসেন। এরপর আমিরাতে স্থায়ী হয়েছেন।

৪২ বছর বয়সী রাশা আমিরাতে কম্পিউটার সাইন্সে লেখাপড়া করেছেন। এবার তিনি বাজে ফল করেছেন ২৪তম এশিয়ান আরচ্যারিতে। তবে আগামীতে আরো ভালো করতে চান।

রাশা বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে এগুচ্ছি। আগামীতে আরো ভালো করতে চাই। আর আমিই হতে চাই আরচ্যারিতে ফিলিস্তিনের প্রথম পদক জয়ী। আমি ইতোমধ্যেই আমিরাতের বিভিন্ন আসরে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ জিতেছি। আরচ্যারি আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে।’

তিনি জানান, তিনি এর আগে ইরাক ও আমিরাতে আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেন। এবারের এশিয়ান আরচ্যারি তার তৃতীয় আসর। ২০২২ সালে তিনি প্রথম আরচ্যারিতে আসেন। আর এখন ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

রাশার কখনই সুযোগ হয়নি গাজায় যাওয়ার। কারণ বাইরের কারোরই গাজায় যাওয়ার অনুমতি নেই। তবে রাশা বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ একদিন আমি ফিলিস্তিনে যাব। ফিলিস্তিনে এমন কোনো পরিবার নেই যাদের কেউ না কেউ ইসরাইলি আক্রমণে শহীদ হয়নি। এ ছাড়া ইসরাইলি আক্রমণে বাড়িঘর হারানো পরিবার তো অসংখ্য। চলমান যুদ্ধে গাজায় থাকা আমরা অনেক আত্মীয়কে হারিয়েছি।’

রাশা বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ এক সময়ে অন্য জাতির মতো আমরা ফিলিস্তিনিরাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাব।’

রামাল্লাহ থেকে আসা ওসাইদ বাদওয়ানের চাচাত ভাই ইসরাইলি আক্রমণে প্রান হারিয়েছেন। তাই গতকাল তাকে বেশ বিমর্ষ দেখা গেছে। কারণ ওসাইদের গ্রামের কয়েকজন মারা গেছে ইসরাইলি হামলায়।