ট্রেড সিক্রেট চুরির গুরুতর অভিযোগ : ওপেনএআই’র বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে অংশীদারিত্বের আড়ালে জমে থাকা বিরোধ এবার প্রকাশ্যে এল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে অ্যাপল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ট্রেড সিক্রেট চুরির গুরুতর অভিযোগ : ওপেনএআই’র বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা
ট্রেড সিক্রেট চুরির গুরুতর অভিযোগ : ওপেনএআই’র বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা |নয়া দিগন্ত

বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে অংশীদারিত্বের আড়ালে জমে থাকা বিরোধ এবার প্রকাশ্যে এল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে অ্যাপল।

আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তাদের আসন্ন এআই ডিভাইসের অত্যন্ত সংবেদনশীল 'ট্রেড সিক্রেট' বা ব্যবসায়িক গোপনীয়তা চুরি করেছে ওপেনএআই। সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত এই চুরির নেটওয়ার্ক বিস্তৃত বলে মামলায় দাবি করা হয়।

এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন ওপেনএআই-এর বর্তমান চিফ হার্ডওয়্যার অফিসার ট্যাং ট্যান। তিনি দীর্ঘ ২৪ বছর অ্যাপলে আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ডিজাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অ্যাপলের অভিযোগ, ট্যান কৌশলে অ্যাপলের বর্তমান কর্মীদের ওপেনএআই-এর ইন্টারভিউতে ডাকতেন। এরপর ‘শো অ্যান্ড টেল’ সেশনের নামে অ্যাপলের আসল হার্ডওয়্যার পার্টস সাথে এনে প্রদর্শনের জন্য চাপ দিতেন।

মামলায় চ্যাং লিউ নামে অ্যাপলের আরেকজন সাবেক ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। চাকরি ছাড়ার সময় তিনি কোম্পানির ল্যাপটপ ফেরত দেননি এবং তা দিয়ে অত্যন্ত গোপন নথিপত্র ডাউনলোড করেছেন।

আদালতের নথিতে অ্যাপল জানায়, বর্তমানে ওপেনএআই-তে প্রায় ৪০০ জনেরও বেশি প্রাক্তন অ্যাপল কর্মী কাজ করছেন। এর ফলে ডেটা ও তথ্যের সার্বিক সুরক্ষা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অথচ ২০২৪ সালে অ্যাপল ও ওপেনএআই যৌথভাবে আইফোনে 'অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স' ও চ্যাটজিপিটি যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পর্দার আড়ালে ওপেনএআই সাবেক অ্যাপল ডিজাইন চিফ জনি আইভকে নিয়ে নিজস্ব গোপন হার্ডওয়্যার বানাচ্ছিল।

অবশ্য ওপেনএআই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, অন্য কোনো কোম্পানির ট্রেড সিক্রেটের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তবে এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত রায় আসতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, 'ট্রেড সিক্রেট' হলো এমন কিছু অভ্যন্তরীণ গোপন প্রসেস বা ডিজাইন, যা প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে গেলে সরাসরি ক্ষতি হয়। সিলিকন ভ্যালিতে প্রতিভাবান কর্মী ও তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই আইন বহুল ব্যবহৃত।

এখন দেখার বিষয়, এই মামলা সত্যিই তথ্য চুরির বিরুদ্ধে অ্যাপলের আইনি প্রতিরোধ, নাকি ওপেনএআই-এর আসন্ন আইপিও ও নতুন ডিভাইস বাজারে আনা বন্ধ করার কোনো কৌশল!

তথ্যসূত্র ও সোর্স: ক্যালিফোর্নিয়া ফেডারেল কোর্টে দায়েরকৃত অ্যাপল বনাম ওপেনএআই (Apple Inc. v. OpenAI Inc.) মামলার সাম্প্রতিক অফিশিয়াল ফাইলিং ও আন্তর্জাতিক টেক নিউজ রিপোর্ট।