মহাবিশ্বের অন্য কোনো গ্রহের উন্নত জীব বা এলিয়েনরা হয়তো শক্তি জোগাড়ের একদম নতুন পথ খুঁজে পেয়েছে। তারা কোনো তারার চারপাশে বিশাল মেগাস্ট্রাকচার বা ঘরবাড়ি তৈরি না করেই তারার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে। বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা বলছে, তারাটি কত দ্রুত ঘুরছে—সেই ঘূর্ণন গতি কমিয়ে তারা এই শক্তি শুষে নেয়।
ডেইল গ্যালাক্সি সম্প্রতি জানিয়েছে, এতদিন বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, গ্রহান্তরের জীব বা এলিয়েনরা হয়তো সূর্যালোকের মতো নক্ষত্রের সব আলো ও তাপ আটকে শক্তি জমায়। কিন্তু মহাকাশে তেমন কিছুর প্রমাণ মেলেনি। 'স্টেলার জে-হার্ভেস্টিং' নামের নতুন এই ধারণায় দেখা যাচ্ছে, গ্রহান্তরের জীবরা নক্ষত্রের আলো আটকায় না, বরং তারার চারপাশের চৌম্বক ক্ষেত্রকে কাজে লাগায়। তারা বিশাল কিছু অদৃশ্য পরিবাহী তারের ফাঁদ বসিয়ে তারার ঘূর্ণন গতি কমিয়ে দেয় এবং সেই চাকার ঘূর্ণন থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ বা শক্তি নিজেদের ব্যাটারিতে জমিয়ে নেয়।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এতে বাড়তি কোনো বর্জ্য তাপ তৈরি হয় না। ফলে বাইরের কেউ সহজে বুঝতেও পারে না যে সেখানে কেউ শক্তি চুরি করছে। তবে মহাকাশে এদের চেনার একটি পথ আছে। সাধারণ একটা তারা যত দ্রুত ঘোরে, এই শক্তি চুরি হওয়া তারারা ঘোরে অনেক ধীরগতিতে। বিজ্ঞানীরা মহাকাশের কেপলার টেলিস্কোপের হাজার হাজার তারা পরীক্ষা করে এমন দুটি সূর্যসদৃশ তারা পেয়েছেন। সাধারণ তারা যেখানে ৫ থেকে ১০ দিনে একবার ঘুরপাক খায়, এই দুটি তারা ঘুরতে সময় নিচ্ছে দীর্ঘ ৬১ থেকে ৬৫ দিন!
তবে ধীরগতির এই দুটি তারা পেলেই যে সেখানে ভিন গ্রহের জীন আছে—তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রাকৃতিক কোনো কারণে বা রাসায়নিক গঠনের পার্থক্যের জন্যও তারার গতি কমে যেতে পারে। কিন্তু এই গবেষণা বিজ্ঞানীদের চোখ খুলে দিয়েছে। এখন থেকে মহাকাশে ভিন গ্রহের প্রাণীদের খোঁজার সময় শুধু গ্রহান্তরের জীবের সংকেত বা সিগন্যাল না খুঁজে, অস্বাভাবিক ধীরগতির তারাদের ওপরও নজর রাখবেন বিজ্ঞানীরা।



