কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কেবল কাজের হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং বন্ধুর মতো আবেগ কেন্দ্রিক সমর্থনের উৎস হিসেবে দেখছে তরুণ প্রজন্ম।
সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণার বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু জানিয়েছে, জেন জি বা নতুন প্রজন্মের এক-চতুর্থাংশের বেশি ব্যবহারকারী এআই-এর সাথে বন্ধুর মতো যোগাযোগ করেন। তাদের ব্যক্তিগত বিষয় ও মানসিক সহায়তার জন্য এই প্রযুক্তির ওপর ভরসা করছে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির ৭ হাজার ২০০ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে করা এই বিশ্বব্যাপী সমীক্ষায় দেখা গেছে, অন্য যেকোনো প্রজন্মের চেয়ে জেন জি অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে এআই ব্যবহার করছে। উত্তরদাতাদের ২৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এআই-কে বন্ধুর মতো ব্যবহার করেন। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এআই কেবল নির্দিষ্ট কাজ করার যন্ত্র থেকে এখন সঙ্গী ও আবেগ কেন্দ্রিক সমর্থনের মাধ্যমে রূপ নিচ্ছে।
গবেষণায় আরো উঠে এসেছে, ২৮ শতাংশ জেন জি সদস্য এমন সব ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে এআই-এর পরামর্শ নেন, যা তারা অন্য মানুষের সাথে শেয়ার করতে দ্বিধা করেন। এটি থেকে স্পষ্ট যে তাদের ডিজিটাল অভ্যাসে সংলাপাভিত্তিক এআই পদ্ধতিগুলো কতটা স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেক বা ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা প্রতিদিন বা নিয়মিত বিরতিতে এআই ব্যবহার করেন, যা সব জনমিতিক গ্রুপের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তরুণরা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে এআই ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ তথ্য অনুসন্ধানে, ৪৯ শতাংশ পড়াশোনায়, ৪৭ শতাংশ নতুন ধারণার সৃষ্টিতে এবং ৩৯ শতাংশ কাজের জন্য এআই ব্যবহার করেন।
ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে আজকের তরুণ প্রজন্ম বা জেন জি অত্যন্ত দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী। তবে এই দক্ষতা থাকলেও এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তারা প্রায়ই হালকাভাবে নিচ্ছেন। সহজ কথায়, এআই-কে অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন ও নিজস্ব একটি মাধ্যম মনে করায় তরুণরা এর নেতিবাচক দিক বা ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর সাথে যোগাযোগ যত ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত হচ্ছে, ততই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এআই টুলে কোনো তথ্য দেওয়া মানেই তা আর গোপন থাকছে না। কারণ এসব প্রযুক্তি যেকোনো সময় ভুল তথ্য দিতে পারে, এমনকি ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল গোপন তথ্যও অন্য কারো কাছে প্রকাশ করে ফেলতে পারে।
ক্যাসপারস্কির এআই টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের গ্রুপ ম্যানেজার ভ্লাদিস্লাভ তুশকানভ বলেন, 'জেন জি অন্য প্রজন্মের চেয়ে এআই-এর পরিবর্তনশীল ধারাগুলোকে অনেক ভালো বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনে এই প্রযুক্তি সংযুক্ত করার নতুন উপায় খুঁজে পায়।' তবে ব্যক্তিগত অনুভূতির এই যোগাযোগকে কখনো কোনো ব্যক্তিগত বা সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য কথোপকথন ভেবে ভুল করা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি তরুণদের সতর্ক করেন। তাই কৌতূহলী হওয়ার পাশাপাশি প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।



