দীর্ঘ ৩৪ ঘণ্টার এক রোমাঞ্চকর যাত্রা শেষে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছেছেন চার সদস্যের এক নতুন নভোচারী দল। স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেটে চড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে রওনা দিয়েছিলেন তারা। তাদের বহনকারী মহাকাশযানটি শনিবার সফলভাবে স্টেশনে অবতরণ করে।
এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন মার্কিন নভোচারী জেসিকা মেয়ার, জ্যাক হ্যাথাওয়ে, ফরাসি নভোচারী সোফি অ্যাডেনো ও রুশ মহাকাশচারী আন্দ্রেই ফেদিয়ায়েভ। তারা আগামী কয়েক মাস সেখানে অবস্থান করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাবেন।
মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে জেসিকা মেয়ার বলেন, ‘আমরা মহাকাশে মানুষের ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতির উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এখান থেকে পৃথিবীর দিকে তাকালে মনে হয়, একে অপরের সহযোগিতা শুধু সম্ভবই নয় বরং অপরিহার্য। এখানে কোনো সীমানা নেই, আশা সবার জন্য সমান।’
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে এক ‘মেডিক্যাল ইমারজেন্সি’ বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ‘ক্রু-১১’ দলের সদস্যরা নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই পৃথিবীতে ফিরে আসতে বাধ্য হন। মহাকাশ স্টেশনের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম জরুরি চিকিৎসা-জনিত প্রত্যাবর্তন। তাদের শূন্যস্থান পূরণ করতেই ‘ক্রু-১২’-এর এই যাত্রা। তবে আগের দলের সদস্যদের স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি নাসা।
বর্তমানে পৃথিবী থেকে ২৫০ মাইল (৪০০ কিলোমিটার) উচ্চতায় অবস্থান করা এই স্টেশনে এতদিন মাত্র তিনজন ক্রু কাজ চালিয়ে নিচ্ছিলেন। নতুন চারজন যোগ দেয়ায় স্টেশনে আবার কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে।
আট মাসের এই মিশনে নভোচারীরা মানবদেহের ওপর মাইক্রোগ্রাভিটি বা অতিসামান্য অভিকর্ষজ বলের প্রভাব নিয়ে অসংখ্য পরীক্ষা-নরিক্ষা করবেন। অভিযানের কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা জেসিকা মেয়ার পেশায় একজন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী।
অন্যদিকে, সোফি অ্যাডেনো দ্বিতীয় ফরাসি নারী হিসেবে মহাকাশ জয়ের গৌরব অর্জন করলেন। তিনি মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি ব্যবহার করে নভোচারীদের নিজেদের মেডিক্যাল আল্ট্রাসাউন্ড করার পদ্ধতি পরীক্ষা করবেন।
অ্যাডেনো বলেন, ‘সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য অভিযানে ফ্রান্স ও ইউরোপকে সাথে নিয়ে আমি গর্বিত।’
ইউক্রেন আগ্রাসনের পর পশ্চিমাবিশ্ব ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটলেও আইএসএস ছিল সহযোগিতার এক বিরল ক্ষেত্র। তবে এর রেশ এখানেও কিছুটা লেগেছে। গত নভেম্বরে রুশ মহাকাশচারী ওলেগ আর্তেমিয়েভকে হঠাৎ করেই এই মিশন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
রাশিয়ার স্বাধীন গণমাধ্যমগুলোর দাবি, স্পেসএক্সের কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের সময় তিনি মোবাইল ফোনে গোপন ছবি ও তথ্য পাচার করছিলেন।
তবে রুশ মহাকাশ সংস্থা ‘রসকসমস’ জানিয়েছে, তাকে অন্য কাজে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অভিজ্ঞ আন্দ্রেই ফেদিয়ায়েভ, যিনি ২০২৩ সালে ক্রু-৬ দলের অংশ ছিলেন।
ফুটবল মাঠের সমান বিশাল এই মহাকাশ স্টেশনটি ২০৩০ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি নির্জন স্থানে বিধ্বস্ত করে এর কার্যক্রম সমাপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। ফলে বর্তমান ক্রু-১২ দল হতে যাচ্ছে এই স্টেশনে বসবাসকারী শেষ কয়েকটি দলের অন্যতম।
সূত্র : বাসস



