নারীদের অংশগ্রহণে সৌদির ৪৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

কিং আবদুল আজিজ প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাফেজরা এতে অংশ নেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো নারীরাও অংশ নেন
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো নারীরাও অংশ নেন |সংগৃহীত

সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো নারীরাও অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ আলে শায়খ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব সমাপ্তির ঘোষণা দেন।

সৌদি প্রেস অ্যাজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, ছয় দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন, তাদের মধ্যে ২০২ জন ছিলেন পুরুষ ও ১৩২ জন নারী।

প্রায় চার দশক আগে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় এ বছরই সর্বোচ্চসংখ্যক প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।

চূড়ান্ত পর্বে কোরআন হিফজ, দক্ষতা, তেলাওয়াতের মান ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপর প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন বিচারকরা। পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ছিলো উন্নত ইলেকট্রনিক বিচারব্যবস্থাও।

এবারের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশ থেকে কোরআনবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিচারক প্যানেল গঠন করা হয়। পুরুষ ও নারী প্রতিযোগীদের জন্য পৃথক বিচারক প্যানেল নিজেদের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাদের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট) মক্কার মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাঁচটি বিভাগে বিজয়ী পুরুষ ও নারী প্রতিযোগীদের পুরস্কৃত করা হবে।

উল্লেখ্য, কিং আবদুল আজিজ প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাফেজরা এতে অংশ নেন।

সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত আট বছরে প্রতিযোগিতাটি আরো বিস্তৃত করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীর সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ৫০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এবার নারী ও পুরুষদের পৃথক ৫টি গ্রুপে ৫ জন করে মোট ৫০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। তাদের পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।

এবারের প্রতিযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য ছিলো- নারী-পুরুষ উভয়কে কোরআনের হিফজ, অনুধাবন ও গভীর অধ্যয়নে সম্পৃক্ত করা এবং পবিত্র কোরআনের খেদমতে সৌদি আরবের প্রচেষ্টা বিশ্বদরবারে তুলে ধরা।

সূত্র : এসপিএ