রমজান আত্মসমীক্ষার পাঠ শেখায়

রমজান চলে যাচ্ছে, কিন্তু যারা এই শেষ মুহূর্তকে উপলব্ধি করে, তাদের পূণ্যের পাতা শূন্য থেকে আলোকিত হয়ে ওঠে। ছোট একটি সদকা, আন্তরিক দোয়া, কিংবা একজনের জন্য করা সৎ কাজ হাজার মাসের সমান ফজিলত এনে দেয়। এই উপলব্ধি আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের নেকি কখনো শেষ হয় না।

মাওলানা মাহদী হাসান কামাল
রমজান একটি আধ্যাত্মিক যাত্রা, যেখানে আমাদের আত্মা ও হৃদয়ের পরীক্ষা হয়। এই মাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্ব এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার অপরিসীম মূল্য। কিন্তু রমজানের শেষ দিকে এসে অনেকেই অনুভব করেন, মাসের প্রথম দিনগুলোর উদ্দীপনা শেষে আমাদের পূণ্যের পাতা এখনো শূন্য।

কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

রোজা ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মাধ্যমে আমাদের ধৈর্য ও আত্মাকে সংযম শেখায়, নৈতিকতার শিক্ষা দেয় এবং অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করার এক অমূল্য মাধ্যম।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখে এবং নেকি ও সদকার দিকে মনোনিবেশ করে, তার পূর্বের পাপ ক্ষমা করা হয়।’ (সহিহ বুখারি)

এই বাণী মনে করিয়ে দেয়, মাসের অধিকাংশ সময় আমরা ব্যস্ততা বা আলসেমিতে কাটিয়েছি, তবুও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে হৃদয় আলোকিত করার।

রমজান আমাদের শেখায়, ছোট নেকির কাজও মানুষের জীবন ও সমাজে আলোর রেখা বিস্তার করতে পারে। দরিদ্রদের জন্য একটি খাবারের খণ্ড, একজন বন্ধুর জন্য সদয় শব্দ, সমাজের জন্য সামান্য সহায়তাও এই মাসে বিশাল ফজিলতের অধিকারী। হাদিসে এসেছে, ‘সর্বোত্তম মানুষ হলো যে মানুষ অন্যদের জন্য উপকারী।’ (সহিহ মুসলিম)

রমজানের শেষ দিকে এসে আত্মসমীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা কি যথেষ্ট করেছি? আমরা কি অন্যের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি? আমাদের সদকা, দোয়া ও নেকি কি হৃদয় আলোকিত করেছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের পূণ্যের পাতায় ছাপ ফেলে। শেষ মুহূর্তেও যদি আমরা সদকা দিই, দোয়া করি এবং সৎ কাজে নিজেকে উৎসর্গ করি, তবে রমজানের পূর্ণ ফজিলত অর্জন সম্ভব।

রমজান আমাদের বাস্তবতার মুখোমুখি করে। এটি শেখায় প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান। সময়ের সঠিক ব্যবহার ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই এখনই সময়, আমাদের হৃদয় ও হাত খুলে মানুষের কল্যাণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করার।

রমজান চলে যাচ্ছে, কিন্তু যারা এই শেষ মুহূর্তকে উপলব্ধি করে, তাদের পূণ্যের পাতা শূন্য থেকে আলোকিত হয়ে ওঠে। ছোট একটি সদকা, আন্তরিক দোয়া, কিংবা একজনের জন্য করা সৎ কাজ হাজার মাসের সমান ফজিলত এনে দেয়। এই উপলব্ধি আমাদের শেখায় যে সত্যিকারের নেকি কখনো শেষ হয় না।

লেখক : শিক্ষাসচিব, জামেয়া বাবুস সালাম, খিলগাঁও, ঢাকা

[email protected]