প্রখর রোদের মধ্যে ১০ লক্ষাধিক মানুষের হজ পালন শুরু

গত বছরের তীব্র গরমে এক হাজারেরও বেশি হাজীর মৃত্যুর পর এবার সৌদি কর্তৃপক্ষ বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে
হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে |সংগৃহীত

প্রখর রোদের মধ্যেই বুধবার মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হজ পালনের আনুষ্ঠানিক শুরু করেছেন ১০ লাখেরও বেশি মুসল্লি। এটি ইসলামের প্রধান পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কমপক্ষে একবার পালন করা আবশ্যক।

গত বছরের তীব্র গরমে এক হাজারেরও বেশি হাজীর মৃত্যুর পর এবার সৌদি কর্তৃপক্ষ বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে।

সাদা পোশাক পরিহিত হজযাত্রীরা যখন ধীরে ধীরে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবাঘর প্রদক্ষিণ করেছেন তখন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে গেছে।

অন্যরা মক্কার উপকণ্ঠে বিস্তৃত তাঁবুর শহর মিনায় একত্রিত হয়েছেন। সেখানে তারা বৃহস্পতিবার হজের সর্বোচ্চ স্থান আরাফার পর্বতে নামাজ পড়ার আগে রাত্রিযাপন করবেন। যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: তার বিদায় হজের শেষ খুতবা দিয়েছিলেন।

পবিত্র মক্কা নগরী থেকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

হজ পাললে আসা ৬৩ বছর বয়সী খিতাম এএফপিকে ফোনে বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি এই পৃথিবীতে নেই। হজের আগে আমি সারাদিন টিভিতে মহাপবিত্র এ মসজিদটি দেখতাম।’

প্রথমবারের মতো হজ পালনকারী ৩৫ বছর বয়সী সৌদি নাগরিক রিম আল-শোগরে বলেন, ‘আমি খুব খুশি, এটি একটি বিস্ময়কর অনুভূতি।’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১৫ লাখ হজযাত্রী সৌদি আরবে এসেছেন।

কর্তৃপক্ষ তাপ সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত ছায়া তৈরি করেছে, যাতে গত বছরের পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায়। গত বছর তাপমাত্রা ৫১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর ফলে ১ হাজার ৩০১ জন মারা গিয়েছিল।

বুধবার হজযাত্রীরা পবিত্র কাবা শরীফ তাওয়াফ করবেন। যার দিকে কেবলামুখী হয়ে মুসলমানরা নামাজ আদায় করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বাসে করে আসা হজযাত্রীরা মিনায় প্রবেশ শুরু করেন। কর্মীরা তাদের কফি ও খেজুর দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

গত বছরের মারাত্মক তাপদাহের পর কর্তৃপক্ষ সুরক্ষা উন্নত করার জন্য ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী মোতায়েন করেছে।

ছায়াযুক্ত এলাকা ৫০ হাজার বর্গমিটার (১২ একর) সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

সৌদি হজমন্ত্রী তৌফিক আল-রাবিয়াহ গত সপ্তাহে এএফপি’কে বলেছিলেন, হাজার হাজার অতিরিক্ত চিকিৎসক প্রস্তুত থাকবেন এবং ৪০০টিরও বেশি শীতলকারী ইউনিট মোতায়েন করা হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিশাল জনতাকে আরো ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য ড্রোনের একটি নতুন বহরের ভিডিওসহ তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর বেশির ভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে অনিবন্ধিত হাজীদের মধ্যে, যাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু এবং বাসে যাতায়াতের সুযোগ ছিল না।

এ বছর তারা অনিবন্ধিত হাজীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।

মক্কায় পৌঁছানোর সময় ‘পারমিট ছাড়া হজ নয়’ লেখা একটি বিলবোর্ড হাজীদের স্বাগত জানিয়েছে।

অতীতে হজে অতিরিক্ত জনতা বিপজ্জনক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে মিনায় ‘শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ’ অনুষ্ঠানের সময় পদদলিত হয়ে সবচেয়ে মারাত্মক হজ দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৩০০ জন নিহত হন।

সূত্র : বাসস

Topics