ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ৩০ বছরের ইতিহাসে শিরোপার স্বাদ পায়নি ইন্টার মিয়ামি। লিগে গত নয় মৌসুমে ট্রফি জয় করেছে ভিন্ন আটটি ক্লাব। এতেই প্রতীয়মান হয় যে, শক্তিতে কতটা কাছাকাছি লিগের দলগুলো। এবার এমএলএসের ষোড়শ ক্লাব মিয়ামিকে ভিন্ন উচ্চতায় তুলে নিয়েছেন লিওনেল মেসি।
ইউরোপের অধ্যায় চুকিয়ে ফ্রান্স লিগের দল পিএসজি ছেড়ে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান আর্জেন্টাইন মহাতারকা মেসি। প্রথম বছর লিগ কাপ জিতলেও মেজর লিগে প্লে অফের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি মিয়ামি। দ্বিতীয় বছর রেকর্ড ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে সাপোর্টর্স শিল্ড জিতলেও অধরাই থেকে যায় লিগ শিরোপা। শেষ পর্যন্ত সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি কেবিনেটে আরেকটি শিরোপা যোগ করলেন বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড। এ নিয়ে ৪৭টি ট্রফি হয়ে গেল ইন্টার মিয়ামির অধিনায়কের।
চেইস স্টেডিয়ামে মেসিময় ম্যাচে ভ্যানকুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে এমএলএস কাপ শিরোপার আনন্দে ভাসল ইন্টার মিয়ামি। ম্যাচ শুরুর ৮ মিনিটে এডিয়ার ওকাম্পোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় মিয়ামি। বল পজিশনে এগিয়ে থাকা ভ্যানকুভারকে ম্যাচের ৬০ মিনিটে সমতায় ফেরান আলি আহমেদ। ১-১ গোলে সমতার পর আক্রমণে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল ভ্যানকুভার। ঠিক সেই সময় গ্যালারিতে ‘মেসি-মেসি-মেসি’ চিৎকার। প্রিয় ভক্তদের ভালোবাসার দাবিতে ম্যাচের আবহ পাল্টে দিলেন ফুটবলের খুদে জাদুকর। ফাইনালে মেসি গোল না পেলেও পুরো মৌসুমজুড়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের শেষটাও রাঙালেন দু’টি অ্যাসিস্টের মাধ্যমে। ম্যাচের ৭১ মিনিটে উজ্জীবিত মেসির অ্যাসিস্টে দলকে এগিয়ে নেন আর্জেন্টাইন সতীর্থ ও যাকে বলা হয় বডিগার্ড, সেই রদ্রিগো ডি পল। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে স্বদেশী তাদেও আলেন্দের গোলেও থাকল তার জাদুকরী স্পর্শ।
ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে এদিন ঝলমলে ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মেসির দীর্ঘদিনের দুই সহযোদ্ধা জর্দি আলবা ও সার্জিও বুসকেটস।
গোল-অ্যাসিস্ট মিলে প্লে অফে ১৫ গোলে অবদান রেখে রেকর্ড গড়েন মেসি। নিয়মিত মৌসুমেও অপ্রতিরোধ্য ছুটে চলায় রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে অনুমিতভাবেই ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ স্বীকৃতিও পান তিনি। আর এতেই আরো একটি নতুন রেকর্ডে নাম লেখান আর্জেন্টাইন জাদুকর। এই লিগে টানা দুইবার সেরা হওয়া প্রথম ফুটবলার এখন মেসিই।



