ফেনী অফিস
ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা শহীদ মো: হারুনুর রশিদের পরিবারকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র দেয়া বাড়ি উদ্বোধন ও স্বজনদের নিকট চাবি হস্তান্তর করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনী শহরের এসএসকে সড়কে যুবদলের মিছিলে পুলিশের গুলিতে হারুন নিহত হন।
উদ্বোধনের আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় ভোর বাজারে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে শহীদ মো: হারুনুর রশিদের স্মরণে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা এক দুঃসময় অতিক্রম করেছি। আমরা এক অন্ধকার সময় অতিক্রম করেছি। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যারা বিরোধী মত পোষণ করতেন, বিরোধী দল করতেন তাদের বাঁচার অধিকার ছিল না। সুন্দর জীবনযাপনের অধিকার ছিল না। বাড়িতে ঘুমানোর অধিকার ছিল না। কে কখন গুম, খুনের শিকার হতো এমন একটা সময় পার করেছি আমরা। এরকম এক ভয়াবহ হিংস্র রাজত্বের মধ্যে পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। কারো লাশ জমির ধারে, কারো লাশ খালের ধারে পড়ে ছিল শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য স্কুলের বাচ্চা-শিশুরাও হত্যা থেকে রেহাই পায়নি। দেশের প্রত্যেকটি জায়গায় শেখ হাসিনার গড়ে তোলা পুলিশ বাহিনী, র্যাব রক্ত ঝরিয়েছে, রক্তের বন্যা বহিয়েছে। তাদের আরেক শিকার এ এলাকার শহীদ হারুন। তারও বেঁচে থাকার ইচ্ছে ছিল। সে দলের একজন ছোট্ট কর্মী। তার স্বপ্ন ছিল, তার আশা ছিল সেও বাঁচবে। তার ইচ্ছে ছিল সে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু তাকে তারা বাঁচতে দেয়নি। শুধু একটা আদর্শের জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে। হারুন টাকা পাচার করেনি। হারুন মেট্রোরেলের টাকা আত্মসাৎ করেনি। সে কথা বলার স্বাধীনতা, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি বলেন, ‘আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আপনাদের পাশে আমি ছিলাম এবং থাকব। আপনাদের জন্য প্রয়োজনে লড়াই করে যাব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ক্ষমতায় আছি। চোর, গুন্ডা, বদমায়েশ, ডাকাত এদের ত্যাগ করে সুন্দর সমাজ গড়ে তুলব। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি আমরা সুন্দর সমাজ উপহার দিব।’
মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি কর্মীবান্ধব দল। বিগত ফ্যাসিবাদ সময়ে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে। শহীদ হারুনের পাশে আমরা শুরু থেকে ছিলাম। আমি এসেছি এ বাড়িতে। বিএনপি সবসময় শহীদদের পরিবারের পাশে থাকবে।’
রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘শেখ হাসিনা হারুনদের মতো অনেককে হত্যা করে ভেবেছিল কিয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। কিন্তু শেখ হাসিনা কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। আল্লাহর বিচার, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হয়েছে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, নরসিংদী-৫ আসনে সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহ-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক বেলাল আহমেদ, কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জালাল উদ্দীন মজুমদার ও মশিউর রহমান বিপ্লব।
অনুষ্ঠানে শহীদ হারুনের স্ত্রী বিবি জোহরার নিকট চাবি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় শহীদ হারুনের বড় মেয়ে মাজেদা আক্তার ও ছেলে তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। চাবি হস্তান্তর শেষে দলীয় নেতাকর্মীরা তার কবর জিয়ারত করেন।



