কুলাউড়ায় জামায়াতে ইসলামীর আমির

করিডোর ও বন্দর প্রশ্নে আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে ‘নো’ বলেছি

Printed Edition
কুলাউড়ায় চা বাগানের শ্রমিক ও পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত
কুলাউড়ায় চা বাগানের শ্রমিক ও পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান : নয়া দিগন্ত

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির কুলাউড়ার কৃতী সন্তান ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, মানবিক করিডোর ও বন্দর প্রশ্নে আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে ‘নো’ বলেছি। আমরা গতকাল প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎকালে দু’টি বিষয়ে নো বলে এসেছি। এ ছাড়াও আমরা রোজার আগে আগেই অর্থাৎ জানুয়ারির মাঝখানে নির্বাচন চেয়েছি। যদি রোজার আগে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ বাকি থাকে তাহলে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি। জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান গতকাল দুপুরে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিক ও পঞ্চায়েতে নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান আরো বলেন, সরকারে যারা যান, তারা কি শ্রমিকদের ভোট নেন না? যদি নিয়ে থাকেন তাদেরকে অন্যান্য নাগরিকের মতো সমান সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। এ দেশের জনগণ যদি আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদেরকে ক্ষমতায় বসায় তাদেরকে (চা শ্রমিকদেরকে) সম্মানের আসনে বসাব। তাদের সন্তানদের প্রতিভার বিকাশে আমরা পাশে দাঁড়াব। জানি না বাগান মালিকরা কেন চা শ্রমিকদেরকে উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করেন না। কেউ কেউ বলেন তারা শিক্ষিত হলে শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন আধুনিক পদ্ধতির যুগ। এখন আধুনিক পদ্ধতিতে ধান রোপণ, মাড়াই, কাটা সব করা সম্ভব। এই বাগানে যাদের জন্ম হয়েছে তাদেরকে যদি প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হয় শ্রমিকও খুশি, মালিকও খুশি। প্রডাকশনও বাড়বে। শ্রমিকদের নাম মাত্র বেতন দেয়ার ফলে তারা শিক্ষা-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নারীদের সন্তানকে পিঠে বেঁধে চা পাতা তুলতে হয়। কী অমানবিক ঘটনা। তারা কি মানুষ না? তাদের জীবন কি মানবিক না? আমাদের সাধারণ পরিবারে যদি একজন পুরুষের আয়ে পরিবারের শিক্ষা-চিকিৎসা সব হয়ে থাকে তাহলে শ্রমিকদেরও চলতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করা। তখন তারা কারো দয়ার দিকে তাকাবে না। তাদের যোগ্যতার বলে তারা তাদের পরিবারকে এগিয়ে নিযে যাবে, সমাজকেও তারা উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাবে। আমরা যে সমাজ দেখতে চাই সে স্থানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ব্যবধান দেখতে চাই না।

চা শ্রমিকদের এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, পল্টন জামায়াতের আমির শাহিন আহমদ খান, কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল মোন্তাজিম, সাবেক আমির মাস্টার আব্দুল হামিদ খান, সাবেক আমির খন্দকার আব্দুস ছোবহান, জয়চন্ডি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলন বৈদ্য, চা শ্রমিক ইউনিয়ন লংলা ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু গোস্বামী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কুলাউড়ার ৩৪ চা বাগানের পঞ্চায়েতের নেতৃবৃন্দ, চা শ্রমিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা: শফিকুর রহমার এর আগে উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে মহিলা সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, ইউনিটের দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।