এবার স্থানীয় নির্বাচনে চোখ জামায়াতের

খালিদ সাইফুল্লাহ
Printed Edition

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভালো ফলের পর এবার স্থানীয় নির্বাচনে চোখ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন সংখ্যায় কম হলেও ভোটের হিসাব দলটিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। সিটি করপোরেশনের মেয়র থেকে শুরু করে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। স্থানীয় নির্বাচনে লড়বেন দলের নারী প্রার্থীরাও।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে ৬৮টি আসন এবং জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ঐক্য। বিপরীতে সরকারি দল বিএনপি পেয়েছে ২১২টি আসন। এক্ষেত্রে বিএনপি প্রদত্ত ভোটের ৫০ শতাংশ পেলেও জামায়াতে ইসলামী-নেতৃত্বাধীন জোট ৩৮ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। প্রায় সাত কোটি ভোটের মধ্যে এ জোট পেয়েছে প্রায় দুই কোটি ৮৮ লাখ নাগরিকের সমর্থন। বিগত সময়ে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ ভোট পেলেও এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে জামায়াত। নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে ৯টি দলের প্রার্থী দেয়া হয়। কিন্তু মাত্র চারটি দল জয়লাভ করতে পারে। তবে জাতীয় নির্বাচনের পর এক বৈঠকে এ ঐক্য আগামীতেও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন দলগুলোর নেতারা। সে হিসাবে আগামী স্থানীয় নির্বাচনেও দলগুলোর সমন্বিত প্রার্থী থাকার আলোচনা আছে। অবশ্য ভিন্নমতও আছে। তবে এর আগে দলীয় প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন দলগুলোর নেতারা। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে রাজধানীর দু’টি সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১২ সিটি করপোরেশনই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। দলীয় প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও শুরু করেছে জামায়াত। ঢাকার দুই সিটিতে কাউন্সিলর প্রার্থী অনেক আগেই ঠিক করে রেখেছে দলটি, যারা গত জাতীয় নির্বাচনেও নিজেদের প্রমাণে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি ব্যানার পোস্টার করেও নিজেদের ইতোমধ্যে জানান দেয়া শুরু করেছেন এসব প্রার্থীরা। মেয়র প্রার্থী নির্বাচনেও দলটির অভ্যন্তরীণ বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। দুই সিটিতে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীকে সামনে রেখে দলটির নেতকর্মীদের মতামত নিচ্ছে দলটি। এতে দুই সিটির পদধারী নেতার পাশাপাশি দলের তরুণ জুলাই যোদ্ধাদের নামও উঠে এসেছে।

একইভাবে অন্যান্য সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্ব^ার এবং পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। সিটির সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদেও প্রার্থী দেবে জামায়াত। বিশেষ করে এবার জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের মহিলা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া থেকে শুরু করে ব্যাপক সংখ্যক ভোট দেয়ায় নারীরা হয়ে উঠেছে জামায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পঁাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ১ মার্চ নির্বাচন ভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকে বছরজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের এমন পরিকল্পনা সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীও সর্বাত্মক প্রস্তুতিতে নেমেছে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটির বিষয়ে বাড়তি নজর রয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয়সূত্রে জানা গেছে, কিছু কিছু জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকিগুলোয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করতে ইতোমধ্যে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভার মেয়রদের অপসারণ করে। দেড় বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। আবার সিটি করপোরেশনগুলোয় নিয়োগ দেয়া হয়েছিল প্রশাসক। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ছয় সিটিতে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এমন রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের নয়া দিগন্তকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তৃণমূল থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তবে এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিটি সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভা-ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।