বিদেশের স্মৃতি

Printed Edition
বিদেশের স্মৃতি
বিদেশের স্মৃতি

সাহেদ বিপ্লব

বিদেশের অনেক স্মৃতি আমার মনে পড়ে। একদিন বিদেশ থেকে দেশে ফিরব বাংলাদেশ বিমানে। আমি বারবার চেয়েছি বাংলাদেশ বিমানে করে আসবো দেশে। দেশে টাকা থাক। সে ভাবনায় বাংলাদেশ বিমানে টিকিট কাটা। আমি এবং আমাদের বন্ধুদের নিয়ে চলে আসলাম বিমানবন্দরে অর্থাৎ আবুধাবী বিমানবন্দর। ভালো মতো চলে আসলাম তারপর অপেক্ষা। বিমান আসবে আমাদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। কখন আসবে বিমান। টিভি স্ক্রিনে লেখা উঠছে বাংলাদেশ বিমান ছাড়বে রাত ১টা ২০ মিনিটে। আমাদের অপেক্ষা আরো বৃদ্ধি পেতে লাগল। ঘড়ির কাঁটা এত ধীরে চলে, জোরে চলতে পারে না কেন?

এক সময় হঠাৎ টিভি স্ক্রিনে উঠল বাংলাদেশ বিমান লেট। কত সময় লেট তা উঠল না। আমরা অপেক্ষা করছি আর অপেক্ষা করছি। এই বুঝি লেট লেখা সরে যাবে বিমান চলে এসেছে। তা আর হলো না। আমরা অপেক্ষা করছি, আর অপেক্ষা করেছি। এই অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছে না। আমরা কোথাও যেতে পারছি না বিমানবন্দর থেকে কখন বিমান চলে আসে। আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বিমান কখন আসবে। এক ভাবে লেখা আছে বাংলাদেশ বিমান লেট আর আমাদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে না। আমাদের সাথে বিশ থেকে বাইশজন সকলে বসে অপেক্ষা করছি। টিভি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছি। মাঝে মাঝে খবর নেয়ার চেষ্টা করছি কোথাও থেকে কোনো খবর পাওয়া যায় কি না।

না কোনো খবর নেই। লেট মানে লেট। এভাবে রাত চলে গেল, দিন চলে যায়, আমরা ব্যাকুল। রাগে মাথার চুল ছিঁড়তে মনে চাচ্ছে। কেউ কেউ গালি দিচ্ছে বিমানের যারা দায়িত্ব আছে তাদের; কিন্তু টিভি স্ক্রিন থেকে বাংলাদেশ বিমান লেট এই লেখাটা যাচ্ছে না। আমাদের ভেতর থেকে দুই-তিনজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছি খাবার আনতে আবুধাবী শহরে। আবুধাবী শহরে বাঙালিদের হোটেল আছে সেখানে বাঙালি খাবার পাওয়া যায়।

আবুধাবী বিমানবন্দরে যে খাবার আছে দাম বেশি আমাদের খেয়ে পেট ভরবে না। যাদেরকে খাবার আনতে পাঠিয়েছি তাদের সাথে আমরা সারাক্ষণ যোগাযোগ রাখছি বিমান এলো কি না। বিমান কি আর আসে? আমাদের অপেক্ষার পালা শেষ হয় না আমরা অপেক্ষায় আছি। এভাবে চলছে অপেক্ষার পালা। আমরা কোথাও যেতে পারছি না। লেট লেখা উঠছে; কিন্তু কখন আসবে তা লেখা উঠছে না। এই কারণে আমরা কোথাও যেতে পারছি না বিমানবন্দর থেকে। এভাবে অপেক্ষা করতে করতে এক সময় টিভি স্ক্রিনে লেখা উঠল। বাংলাদেশ বিমান রাত ১টা ২০ মিনিটে ছাড়বে, আবুধাবী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে।

আমাদের ভেতর আনন্দের বন্যা বয়ে গেল প্রায় ৩৫০ জন মানুষের ভেতর। সেদিন সেই আনন্দ আর কাউকে বলে বুঝানো যাবে না। স্বদেশের মাটির প্রতি কি যে মায়া। একবার দেখার কী যে টান। তা কি পৃথিবীর কোনো ভাষায় বুঝানো যায়?

সকল কাগজপত্র ঠিক করে বিমানে উঠতে উঠতে কত কিছু ভাবলাম তা আজ মনে নেই। ২০০৭-৮ সালের কোনো এক সময়। তবে ভালো করে সালের নাম মনে নেই। বাংলাদেশ বিমানের কাছে তথ্য আছে আবুধাবী থেকে ঢাকার বিমান ২৪ ঘণ্টা লেট করেছিল।

বাংলাদেশ বিমানে আসার মজাটা আলাদা। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা যখন দেখি তখন কি যে ভালো লাগে তা কী বুঝানো যায় পৃথিবীর কোনো ভাষায়। যেসব মানুষ বিদেশ যায়নি তারা বুঝতে পারবে না। আমাদের পতাকাবাহী বিমান বিদেশের মাটিতে। আমাদের পতাকা বিদেশে উড়ছে। এটা শুধু ভালোবাসা নয় আনন্দ। এই আনন্দ নিয়ে ফিরে এলাম বাংলাদেশ বিমানে বাংলাদেশে। আমার প্রিয় জন্মভূমি তোমার তুলনা শুধু তুমি। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।

লেখক : প্রকাশক, টইটই প্রকাশন