হ্যাঁ ভোট দেয়া মানে সংস্কারের পক্ষে : ড. বদিউল আলম

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘হ্যাঁ ভোট দেয়া মানে সংস্কারের পক্ষে আর না ভোট দেয়া মানে পুরনো কাঠামোর পক্ষে, যে কাঠামোতে শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিল’।

গতকাল রংপুর মহানগরীর আরডিআরএস মিলনায়তনে দিনভর ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ বিষয়ক বিভাগীয় সংলাপে এই মন্তব্য করেন তিনি। রংপুর জেলা ও মহানগর সুজন এই সংলাপের আয়োজন করে।

ড. বদিউল বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে ৮৬টি বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৬টি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি হবে। বাকি ৪৮টিতে গণভোট হবে। এই ৪৮টিকে চারটি ভাগে ভাগ করা হলেও মূলত গণভোটের প্রশ্ন একটি। সেটি হলো হ্যাঁ অথবা না। পক্ষে না বিপক্ষে। হ্যাঁ ভোট দেবেন। অথবা না ভোট দেবেন। হ্যাঁ ভোট দেয়া মানে আপনি সংস্কারের পক্ষে আর না ভোট দেয়া মানে যে অবস্থা বিরাজ করছে সেটির পক্ষে। শেখ হাসিনা ট্যাংকে চড়ে ক্ষমতায় আসেনি। শেখ হাসিনা উর্দি পরেও ক্ষমতায় আসেনি। শেখ হাসিনা এসে সংবিধান বাতিলও করে দেয়নি। যদিও সংবিধান আমূল পরিবর্তন করেছিল। পুনর্লিখন করেছে। শেখ হাসিনা সেই স্বৈরাচারী কাঠামো ব্যবহার করেই দানবে পরিণত হয়েছেন। না ভোট দিলে সেটিই হবে। যদি এই স্বৈরাচারী কাঠামো অব্যাহত থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তারাও স্বৈরাচারী হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।’

ড. বদিউল আলম বলেন, ‘এই সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। এই সরকার গণ-অভ্যুত্থানের সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকরের জন্য আইনি কাঠামো ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করে চলে যাওয়া। নীতিগত সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে না। এই সরকার এসেছে কতগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। নির্বাচন, সংস্কার এবং বিচার। সংস্কার করার জন্য তারা ১১টা সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন। সংস্কার করার জন্য তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ। সে কারণে তারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন। এটা শুধু সরকারের মতামতে নয়, তারা বিশেষজ্ঞ মতামতও নিয়েছেন। যেখানে দুইজন সম্মানিত সাবেক প্রধান বিচারপতি ছিলেন, একজন গুম কমিশনের সদস্য, আরেকজন যিনি হলফনামা দিতে হবে সেই রায় দিয়েছিলেন। আরেকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন এবং তিনজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছিলেন সেই প্যানেলে। তারাও মতামত দিয়েছেন। তাই এটা বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সরকারের সিদ্ধান্ত।

ড. বদিউল বলেন, ‘ শুধু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলেই হবে না, গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। আমরা জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। তাদের ঋণ পরিশোধের জন্য সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়মুক্তির অভিযাত্রা।’

পরে সুজনের বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। সেখানে গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন-সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দেন তিনি।