বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি ভারত

এনডিজের সেমিনারে আলোচকরা

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাতিগত ঐক্যের বিকল্প নেই। নিরাপত্তা রক্ষায় যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভাবতে হবে।

হারুন ইসলাম
Printed Edition
নেক্সাস ডিফেন্স এন্ড জাস্টিস-এর সেমিনার
নেক্সাস ডিফেন্স এন্ড জাস্টিস-এর সেমিনার |নয়া দিগন্ত

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত আমাদের জাতির মূলশত্রু। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই নানারকম ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে তারা। এ দেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদদের তারা নিয়ন্ত্রণ করেছে। বাংলাদেশকে তাদের কলোনি রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছে। এ দেশটি আমাদের ভবিষ্যৎ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর রহমান চৌধুরী অডিটরিয়ামে গবেষণাবিষয়ক হাইব্রিড সংস্থা নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস (এনডিজে)-এর উদ্যোগে ‘জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা : বাংলাদেশের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঠনে দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন বক্তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ । মূলবক্তব্য উপস্থাপন করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রি. জে. (অব:) এ টি এম জিয়াউল হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনডিজের সেক্রেটারি জেনারেল লে. কর্নেল হাসিনুর রাহমান, বীরপ্রতীক (বরখাস্ত)। এ ছাড়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ‘জবান’-এর সম্পাদক রেজাউল করিম রনি, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ তথা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের এ জায়গা (বাংলাদেশ, মিয়ানমারের কিছু অংশ) এখন বিশ্ব মোড়লদের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের পাশের দেশ ভারত দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাতিগত ঐক্যের বিকল্প নেই। নিরাপত্তা রক্ষায় যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভাবতে হবে। একইসাথে ফ্যাসিবাদী আমলের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিমালা বাতিল করে নতুন করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

জুলাই আন্দোলনে আহত এক শিক্ষক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে জীবনবাজি রেখে ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে লড়েছি। ফ্যাসিবাদী হাসিনা পতনের পর সবচেয়ে বেশি নিগ্রহ হয়েছে এ দেশের জুলাই যোদ্ধারা। সরকারে থাকা তথাকথিত জুলাই ব্যবসা করেছে, কিন্তু ঠিকভাবে এ বিপ্লবীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে বলতে চাই- জুলাই যোদ্ধাদের আহতদের সুচিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করুন। বক্তব্যকালে বেশ কিছু দাবিদাওয়া পেশ করেন এ শিক্ষক।

স্বাগত বক্তব্যে লে. কর্নেল হাসিনুর রহমান বলেন, আমাদের এ জাতির মূলশত্রু ভারত। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই তারা নানারকম ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। দেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে তাদের পরাজয় বরণ করেছে ভারত ও তাদের দোসররা। অভ্যুত্থানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। বিভিন্নভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টে কাজ করছে। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভেদ থেকে বেরিয়ে জাতি, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ঔপনিবেশিক নিয়মকানুন ফেলে আমাদের মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে নিয়মকানুন গঠন করতে হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) জিয়াউল আহসান বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ইস্যু অন্যান্য দেশের থেকে ভিন্ন। বিগত রেজিমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, প্রযুক্তিখাত পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশকে ঋণে জর্জরিত করা হয়েছে। বিগত সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আওয়ামীকরণ করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি সেক্টর ভঙুর করে দেয়া হয়েছে। সেই জায়গা থেকে উত্তরণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা কাজ করছেন। আমাদের উচিত ঐক্য ও বিভেদ ভুলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা।

এ ছাড়াও জাতীয় স্বার্থ ও প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক ও সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পররাষ্ট্র নীতির কৌশল, সার্বভৌমত্ব রক্ষার রূপরেখা, পরিবেশগত ঝুঁঁকি নিরসন করণীয় পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে যে সরকার ক্ষমতায় ছিল একটা পেশার লোককেও সৎ থাকতে দেয়নি। তারা নিজেরা অসৎ ছিল, অসৎ উপায়ে ক্ষমতায় এসে অসৎভাবেই ক্ষমতা ধরে রাখতে চেয়েছিল। সমস্ত মানুষকে সে অসৎ পথের সহযাত্রী করতে চেয়েছিল। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের চেয়েও ভারতের লোকসংখ্যা অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও ভারত পাকিস্তানকে আক্রমণ করার সাহস পায় না। কারণ পাকিস্তানের কাছে আধুনিক অস্ত্র আছে। ভারত আমাদের বন্ধু না। ভারত অতীতে বন্ধু ছিলো না, এখন বন্ধু না, ভবিষ্যতেও হবে না। বিএনপির এ স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ভারত স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা করেছিল। কিন্তু এখন তাদের আচরণ দেখে মনে হয় তারা শুধু পাকিস্তানকে বিভক্ত করতেই আমাদের সাহায্য করেছিল। তারা পাকিস্তানকে ভাঙতে চেয়েছিল, তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে চায়নি।